।। সংবাদদাতা, বগুড়া ।।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যতটুকু সম্ভব ইভিএম ব্যবহার করা হবে। আগামীতে সব নির্বাচন ইভিএমে করা হবে। তার জন্য আইনগত কাঠামো তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) বগুড়া জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃংখলা বিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় শেষধাপের ২০ উপজেলার নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি দাবি করেন, সিরাজগঞ্জে সামান্য সমস্যা ছাড়া সব উপজেলায় ভালো ভোট হয়েছে।

ইভিএম প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইভিএম নতুন পদ্ধতি হলেও এতে ভোট দেয়া খুব সহজ। স্বচ্ছভাবে ভোট দেয়া যায়। ভোট শেষে এক দেড়-ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল দেয়া সম্ভব। এতে আগের মতো রাত জেগে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, বগুড়ায় অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না। তবে বুথগুলোতে ইভিএমের টেকনিক্যাল পারসন হিসেবে সেনা সদস্যরা থাকবেন। তারা শুধু ইভিএমে কোনও সমস্যা হলে তা দেখবেন।

বগুড়া-৬ (সদর) শূন্য আসনে উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, একটি আসনে নির্বাচন হলেও এটিকে সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বগুড়ার নির্বাচনি পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার নির্বাচনি পরিবেশ এবং প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার প্রবণতা অনেক ভালো। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার সব কৃতিত্ব ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের কর্মী ও সর্মথকদের। প্রার্থী ও তাদের কর্মী সর্মথকসহ ভোটাররা যদি নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলেন, তাহলে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ভার অনেক কমে যায়। সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি।

সভায় রিটার্নিং অফিসার মাহবুব আলম শাহ্ তার স্বাগত বক্তব্যে জানান, ২২ জুন প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএমে ডামি ভোট গ্রহণ করা হবে। ১৪১টি কেন্দ্রের ৯৬৫ বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একটি অতিরিক্ত ইভিএম মেশিন থাকবে। ১৪১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৯৬৫ জন সহকারি রিটার্নিং অফিসারসহ মোট তিন হাজার ৩৬ জন জনবল থাকবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর, বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা, রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার এএসএম জাকির হোসেন ছাড়াও সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।