।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

শনিবার যে রূপ দেখা গিয়েছিল টনটনের উইকেটের, একই চেহারা দেখা গেল রোববারও। ঘাসে ভরা উইকেট। ম্যাচের সকালে নিশ্চয়ই ছাঁটা হবে ঘাস। তবে কতটা ছাঁটা হবে? কেমন হবে আচরণ? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের উইকেটের সম্ভাব্য আচরণ নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছে বাংলাদেশ দল, অনুমান করে নিতে পারছে না এখনও। এখানকার উইকেটে ঘাস কিছুটা রাখা হলেও বেশিরভাগ সময় দেখা যায় উইকেট ব্যাটিং বান্ধব। আকাশ মেঘলা থাকলে আচরণ একটু অন্যরকম হতে পারে। অনেক সময় আবার দেখা গেছে, খানিকটা ঘাস থাকার পরও উইকেটে স্পিন ধরেছে।

এই মাঠের উইকেট দেখে মাশরাফি বিন মুর্তজার মনে পড়ছে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে উইকেটের কথা। ওভালে সেদিন উইকেট পড়তে গড়বড় করেছিল দল। বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, একই রকম ধন্দে আছেন তারা এই ম্যাচের উইকেট নিয়েও। একটা ম্যাচে জয়-হার অনেকটাই নির্ভর করে উইকেট বুঝতে পারার ওপর। আমার কাছে মনে হয়, যেটি আমরা নিউ জিল্যান্ড ম্যাচে পারিনি। যদি উইকেট পড়তে পারতাম, তাহলে বোঝা উচিত ছিল, ওই উইকেটে ২৬০-২৭০ জয়ের মতো রান ছিল। এটা বুঝতে পারা খুব প্রয়োজন।

এই উইকেটেও একইরকম বিভ্রান্তি আছে। প্রথমদিকে শুনছি যে ঘাস আছে। আবার কেউ কেউ বলছে, আজীবনই এটা ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। তো মাঠে নেমে যারা যত আগে বুঝতে পারবে, তাদের লাভ বেশি হবে। উইকেট যারা আগে বুঝতে পারে, তারা অনেকটাই এগিয়ে থাকে।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে উইকেট ৩২০-৩৫০ রানের বলে ভেবেছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের মাঝামাঝি তাই ড্রেসিং রুম থেকে টিম ম্যানেজমেন্ট বার্তা পাঠিয়েছিল রানের গতি বাড়াতে। সেই চেষ্টা করতে গিয়ে উইকেট হারিয়ে হয় উল্টো ফল।

তবে ম্যানেজমেন্টের চেয়ে নিজেদের দায়টাই বেশি দেখছেন মাশরাফি। সামনে তাকিয়ে তাই দায়িত্ব নিতে বলেছেন ব্যাটসম্যানদেরই।

একটা ম্যাচে খেলা চলার সময় উইকেট বদলায় অনেক সময়ই। উইকেট পড়তে না পারলে ক্রিকেটারদের ব্যর্থতাই বেশি। এতদিন খেলার পর উইকেট বোঝা উচিত নিজেদের, বাইরে থেকে কে কী বলছে সেসবের চেয়ে।

একই উইকেটকে একেক দিন একেক রূপে দেখা যেতে পারে। একেক রকম আচরণ করতে পারে। ক্রিকেটার যারা খেলবে, তাদেরই বুঝতে হবে আরও আগে। ধারাভাষ্যকারদের কথা শুনে উইকেট পড়ার চেষ্টা করা যাবে না। যারা উইকেটে থাকবে, তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে আমি মনে করি।

টনটনে এবার দুটি ম্যাচ হয়েছে এই বিশ্বকাপের। সবশেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ৩০৭ রান তাড়ায় পাকিস্তান করেছিল ২৬৬। আগের ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১৭৩ রানে আটকে নিউ জিল্যান্ড জিতেছিল ৭ উইকেট।