।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বায়ু আবারও দিক পরিবর্তন করে ভারতের গুজরাট উপকূলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশটির আবহাওয়া ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তার আশঙ্কা জুনের ১৭ বা ১৮ তারিখে ঘূর্ণিঝড়টি কুচ জেলায় আঘাত হানতে পারে। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই সতর্কতার কয়েক ঘণ্টা আগে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি ঘোষণা দিয়েছিলেন ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমদিকে মোড় নেওয়ায় রাজ্যে কোনও হুমকি তৈরি করছে না।

আরব সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ মঙ্গলবার (১১ জুন) ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ভারতের আবহাওয়া দফতর জানায়, ‌এটি তীব্র শক্তিশালী মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গুজরাট উপকূলের স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয় ভারতের আবহাওয়াবিদরা। তবে বুধবার রাত এবং বৃহস্পতিবার সকালে এটি দিক পরিবর্তন করে আবারও সাগরের দিকে মোড় নেয়।

শনিবার (১৫ জুন) আবহাওয়া ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম রাজিভান  বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, ১৬ জুন আবারও দিক পরিবর্তন করতে পারে ঘূর্ণিঝড় বায়ু আর ১৭-১৮ জুনে তা কুচ এলাকায় আঘাত জানতে পারে।  তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে তীব্র ঘূর্ণিঝড়টির মাত্রা কমে এটি ঘূর্ণিঝড় বা গভীর নিম্নচাপ হিসেবে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।  ঘূর্ণিঝড় দিক পরিবর্তন করায় গুজরাট সরকারকে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেন তিনি।

অবশ্য দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকমের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে গুজরাট সরকার। রাজ্যের বন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গুজরাট এবং দমন দিউ মিলিয়ে প্রায় লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।  ৭০টি ট্রেন সূচি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলোয় স্কুল ও কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরও বন্ধ রাখা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া বাতিল করা হয়েছে সব ফ্লাইট। মুম্বাইয়েও ৪০০ ফ্লাইট সূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

তবে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি ঘূর্ণিঝড় বায়ু থেকে গুজরাটকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া মানুষদের পরবর্তী তিন দিনের প্রাত্যহিক খরচের জন্য সাড়ে পাঁচ কোটি রুপি বরাদ্দের কথা জানান তিনি। শনিবার থেকে স্কুল ও কলেজ খুলে দেওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। উপকূলীয় ১০টি জেলায় পাঠানো সিনিয়র মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদেরও ফিরে আসার নির্দেশনা দেন তিনি।

স্থলভাগে এখনও আছড়ে না পড়লেও ঘূর্ণিঝড় বায়ুর প্রভাবে গুজরাটে ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে গির সোমনাথ জেলার তালালা তহশিল এলাকায় সর্বোচ্চ সাড়ে ছয় ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের আবাহাওয়া দফতর।