।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ইংল্যান্ডের অন্য শহরের চেয়ে টন্টন কিছুটা আলাদা। কল-কারখানার বিকট শব্দ কিংবা মানুষের কোলাহল ও ভিড় নেই বললেই চলে। এখানকার জীবনযাপনের মানও উন্নত। অন্য শহরের ব্যস্ত মানুষগুলো টন্টনে একান্তে ছুটি কাটাতে ছুটে আসেন। এই শহরেই বাংলাদেশের পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আগামী সোমবার টন্টনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের মুখোমুখি হবে মাশরাফিরা। দুই দিন ছুটি কাটানোর পর আজ (শুক্রবার) অনুশীলনে নামবে বাংলাদেশ।

ছুটি কাটিয়ে সতেজ মনে শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) অনুশীলন করবে বাংলাদেশ দল। অবশ্য দুই দিন ছুটি কাটানোর পর আজও মাশরাফিদের ঐচ্ছিক অনুশীলন। যদিও দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়েরই থাকার কথা কাউন্টি গ্রাউন্ডে।

ব্রিস্টল থেকে টন্টনে আসার পর মাশরাফিই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ঘুরে বেরিয়েছেন। গ্রাম এমনিতেই পছন্দ তার। টন্টনের নিরিবিলি পরিবেশ তাই ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে। এতটাই মুগ্ধ তিনি যে, টিম হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, এত নিরিবিলি কোথাও কি থাকা সম্ভব? এখানে শান্তি মতো ঘুরতে পারছি, হাঁটতে পারছি, খুব ভালো লাগছে।

অবশ্য ছুটি শেষে এখন ১৭ জুন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকেই সব নজর মাশরাফির। যদিও বৃষ্টির কারণে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ ভেসে যাওয়ার আফসোস এখনও আছে মাশরাফির মনে। সেটা আরও বেড়ে যায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের হারের স্মৃতি মনে পড়তেই, এভাবে বৃষ্টি হলে করার কিছুই থাকে না। সামনের ম্যাচেও যে বৃষ্টি হবে না, এর নিশ্চয়তা কে দেবে? আমাদের এত কিছু ভাবতে হতো না, যদি আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে যেতাম। এখন আমাদের পয়েন্ট থাকতো ৫। কিন্তু বৃষ্টি ও ভাগ্যের কারণে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে গেলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের সাফল্য আত্মবিশ্বাসের রসদ জোগাতে পারে বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপের আগেই আয়ারল্যান্ডে ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে বহুজাতিক প্রতিযোগিতার প্রথম শিরোপা জিতেছে ‍টাইগাররা। যদিও অতীত ভুলে সামনে তাকিয়ে মাশরাফি বলেন, হারানো পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করলে হবে না। আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ছোট মাঠে ভালো বোলিং না করলেও সমস্যায় পড়তে হবে। আমরা অবশ্য আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করব। এখন আর বেছে বেছে ম্যাচ জেতার সুযোগ নেই। সেমিফাইনালে খেলতে হলে সামনের সব ম্যাচই জিততে হবে।