Loading...
উত্তরকাল > Blog > অর্থনীতি > আলোর মুখ দেখেনি সুদহারের সিঙ্গেল ডিজিট ঘোষণা

আলোর মুখ দেখেনি সুদহারের সিঙ্গেল ডিজিট ঘোষণা

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে (এক অঙ্কে) নামিয়ে আনার ঘোষণা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। উল্টো ঋণের ওপর সুদের হার বেড়েই চলেছে। কোনও কোনও ব্যাংক ঋণ-বিতরণের ক্ষেত্রে ঘোষণা দিয়েই ২০ শতাংশ হারে সুদ আরোপ করছে। কোনও কোনও ব্যাংক নিচ্ছে ক্রেডিট কার্ডের চেয়েও বেশি সুদ। গত এপ্রিল মাসে মিডল্যান্ড ব্যাংক ভোক্তাঋণে (কনজুমার ক্রেডিট) সুদ আরোপ করেছে ২০ শতাংশ। এবি ব্যাংক ভোক্তাঋণে সুদারোপ করেছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। একইভাবে ভোক্তাঋণে ট্রাস্ট ব্যাংকও সুদ আরোপ করেছে ১৯ শতাংশ। আইএফআইসি ব্যাংক গত এপ্রিল মাসে ক্রেডিট কার্ডে ১৫ শতাংশ সুদ আরোপ করলেও ব্যাংকটি ভোক্তাঋণে সুদারোপ করেছে ১৯ শতাংশ হারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গত বছরের ১ জুলাই থেকে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট ও আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো। তবে, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে রাজধানীর একটি হোটেলে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ব্যাংক মালিকদের বৈঠকে ঋণ-আমানত অনুপাতের সীমা সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও-সিআরআর) এক শতাংশ করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলের ৫০ ভাগ অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৫৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৫৫টিই এখন দুই অঙ্কের সুদ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশেরও বেশি সুদারোপ করছে চারটি ব্যাংক। ১৬ শতাংশেরও বেশি সুদ নিচ্ছে ১৭টি ব্যাংক। মাত্র দুটি ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গত বেশ কিছুদিন ধরে আমানত সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যাংকের খরচ বেড়ে গেছে। এ কারণে ঋণেও সুদহার বেড়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগে আমানত ও ঋণের সুদহারের পার্থক্য ৩ শতাংশ হলেই হতো, কিন্তু এখন তারল্যসংকটের কারণে তহবিল সংগ্রহের খরচ অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এরফলে ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়েই ঋণে সুদহার বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সরকারি-বেসরকারি মিলে ৫৭ ব্যাংকের মধ্যে মাত্র দু’টি ব্যাংক ঋণে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে পেরেছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের তথ্য নিয়ে সাজানো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি খাতের বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও বিদেশি খাতের সিটি ব্যাংক এনএ ৯ শতাংশ হারে সুদ নিচ্ছে।

যেসব ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে, সেগুলো এই সেবার বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে দুই অঙ্কের সুদ নিয়ে আসছে। কোনও কোনও ব্যাংক ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ হারেও সুদ আরোপ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রফতানি খাতে ৭ শতাংশ ও কৃষিতে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করলেও অন্য খাতে ঋণ বিতরণ করছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে। এরমধ্যে এসএমই, ভোক্তাঋণ, গৃহঋণ, ট্রেডিং খাত উল্লেখযোগ্য। তবে, মাত্র দুটি ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি বৃহৎ ঋণও বিতরণ করছে।

গত মার্চে নতুন করে ১০টি ব্যাংক সুদ বাড়িয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে বাড়ায় ৩১টি ব্যাংক। আগের মাসে (জানুয়ারি) ঋণের সুদহার বাড়িয়েছিল ২৮টি ব্যাংক। আর ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ২৭টি। অর্থাৎ প্রতিমাসে ঋণের সুদহার বাড়ানো ব্যাংকের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সুদের হার বেড়ে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে খেলাপি ঋণ। এ ছাড়া আমানতে সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ঋণেও এর প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদহার ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহে বেশি খরচ হচ্ছে। এজন্য ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংকের উদ্যোক্তারা বেশ কয়েকটি সুবিধা নিয়েছেন। ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ ও সংখ্যা দুটোই বাড়িয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ব্যাংকের কর্পোরেট কর আগের চেয়ে আড়াই শতাংশ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা; ঋণ ও আমানতের হার (এডিআর) সমন্বয়সীমার সময় বাড়ানো হয়েছে। রেপো রেট ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) এক শতাংশ কমিয়ে সাড়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: