Loading...
উত্তরকাল > Blog > সব খবর > নিজের মোবাইলে নুসরাতের ভিডিও ধারণ, স্বীকারোক্তি ওসির

নিজের মোবাইলে নুসরাতের ভিডিও ধারণ, স্বীকারোক্তি ওসির

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে থানায় জেরা করে ওই  দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনেই ভিডিও ধারণ করেছেন সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন। তবে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ইতোমধ্যে পিবিআই আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করেছে। রোববার (২৬ মে) বিকেলে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বিষয়টি জানান।

পিবিআই প্রধান বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম থানায় নুসরাতের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াননি বলেও দাবি করেছেন। আমরা তদন্তে ভিডিও ধারণ ও তাকে জেরা করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছি। এজাহারে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার আংশিক সত্যতাও পেয়েছি। সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম নিজেই তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করার পর সজল নামে এক ব্যক্তির কাছে দিয়েছিলেন। তার মাধ্যমেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

প্রসঙ্গত, নুসরাত হত্যার ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় অভিযোগে বলা হয়, আইন-বহির্ভূতভাবে ভুক্তভোগী নুসরাতের বক্তব্য রেকর্ড করেন পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম।  তিনি (তৎকালীন ওসি) খাসকামরায় নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় মামলা নেয়ার আবেদন করা হয়। মামলাটির তদন্তে দায়িত্ব পায় পিআইবি। প্রায় দেড়মাস পর তদন্ত করে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিট চলতি মাসের দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পেয়েছি। ওই প্রতিবেদনে নুসরাতের পোশাকে কেরোসিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা মামলার তদন্তে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম শ্রেণির (এইচএসসি সমমান) আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে ৪-৫ জন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। এরপর চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: