।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

গ্রামে-গ্রামে গিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে ধান কিনেছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের। বুধবার (২২ মে) দুপুরে জেলার পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার মধুসুদনপুর গ্রামে গিয়ে কৃষকদের বাড়ির সামনে থেকে তিনি ধান কেনেন।

এদিকে ক্রয়কৃত ধানের মূল্য কৃষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌছে দেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ করে দিয়েছে সরকার। মাত্র ১০ টাকাতেই এখন তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন।

পবা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কৃষকেরা সরকারি মূল্যে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। এমন খবরের ভিত্তিতে রাজশাহীর ডিসি যেকোনো উপায়ে ধান কেনাবেচায় কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে ডিসি এসএম আব্দুল কাদের পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ, পবা সহকারি কমিশনার ভূমি নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হোসেন ভূইয়া, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে নওহাটা পৌরসভার মধুসুদনপুর গ্রামে উপস্থিত হন।

খবর পেয়ে ওই গ্রামের কৃষকেরা ধান বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। সেখানে তিনজন কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে আড়াই মেট্রিক টন ধান কেনা হয়। এ সময় অফিস কৃষকদের শনাক্ত করেন। ন্যায্যমূল্য পেয়ে কৃষকেরাও উচ্ছ্বসিত হোন এবং সরকারের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান।

মজিবর হাজি নামের এক কৃষক জানান, ডিসি উপস্থিত থেকে ধান কেনার কথা শুনে তিনি ১৫ মণ ধান বিক্রি করেছেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে তিনি ধান বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ ধানের দাম পেয়েছেন ১ হাজার ৪০ টাকা। তিনি আরো বলেন, আমার মতো সারা দেশের ধানচাষিরা বাজারে ধানের এমন মূল্য পেলে উপকৃত হতো। সব জায়গায় যদি এভাবে ধান কেনা হয়, তাহলে চাষিরা অনেকটা লাভের মুখ দেখবে।

জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন সব সময় তৎপর থাকবে। তিনি ও তাঁর কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার তদারকি করবেন। কোনো ব্যবসায়ী কৃষক সেজে ধান বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, আজ প্রকৃত কৃষকের কাছে থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। কৃষকদের কৃষিকার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করতে সংশ্লিষ্ট দফতর ও ব্যাংকে তাগিদ দেয়া হবে।

তবে প্রান্তিক অনেক কৃষক কৃষিকার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকায় ধান দিতে পারছে না। এতে কৃষকরা ধান বিক্রিসহ অন্যান্য কৃষি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিলা নাসরিন, কৃষক মাইনুদ্দিন, আব্দুল আওয়াল, মনিরুল ইসলাম, বাবু আলী প্রমুখ।

আলোকচিত্র : মাহফুজুর রহমান রুবেল