।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে রাজশাহীর সড়কে ধান ছিটিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় একটি ছাত্র সংগঠন। ধানসহ দেশের সকল কৃষি পণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌতাত্ম্যের লাগাম টেনে ধরতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে রাজশাহীতে বুধবার (১৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা কৃষকদের পক্ষে এই প্রতিবাদ জানায়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কৃষকদের চেষ্টা ও সচেতনতায় দেশে এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে সেই ধানের ন্যায্যমূল্য সরকার নিশ্চিত করতে পারছে না। এখন এক মণ ধানের যে দাম পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হচ্ছে দেড়’শ থেকে দুই’শ টাকা।

তারা আরো জানান, এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা ধান উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে। ফলে আগামীতে ধান আমদানি ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আর তখন ঠিকই আমাদেরকে বেশি দামে ধান আমদানি করতে হবে।

তাই কৃষকদের পাশাপাশি দেশের সকল মানুষের কথা চিস্তা করে সরকারকে ধানের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। যাতে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ না হারায়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক আরিফুজ্জামান অনিক, সমন্বয়ক নিশাত সুলতানা শাকিলা, নর্থবেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ শুভ, রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী আলমগীর কবির সবুজ প্রমুখ।

রাবি শিক্ষার্থীরাও ধান ছিটিয়ে মানববন্ধন করেন।

এদিকে আমাদের রাবি প্রতিবেদক জানান, একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কৃষকের শ্রমের মূল্য ও কৃষকের ওপর চলমান নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে এ মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধনে কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য দাবি করে এবং তাদের সাথে চলে আসা বৈষম্য তুলে ধরে প্লাকার্ড বহন করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান আভা বলেন, কৃষি ও কৃষকের কাছে পোতা রয়েছে আমাদের নাড়ি। আমরা যারা এই ভূখণ্ডের সন্তান তাদের অধিকাংশের ধমনীতেই কৃষকের রক্ত বহমান। এখনও আমরা অধিকাংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু সেই কৃষিকাজের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের আজ বেহাল অবস্থা। ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাব্বত হোসেন মিলন বলেন, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারের কাছে আবেদন থাকবে, যাতে সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত সকল সুযোগ সুবিধা কৃষকেরা পায় সেদিকে সুদৃষ্টি দিতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এই কৃষকেরা যদি এভাবে মার খেতে থাকে তবে দেশের কোনো উন্নয়নই স্থিতিশীল হবে না।

প্রসঙ্গত, গত রোববার টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক শিকদার ধানের দাম না পেয়ে তাঁর ধানিজমিতে পেট্রল দিয়ে আগুন দেন। গণমাধ্যমে এই খবর ও ছবি প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে আজ ১৫ মে সারা দেশে জেলাগুলোতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।