।। ওয়াসিফ রিয়াদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

বাংলাদেশে সজনা বহুল পরিচিত একটি উদ্ভিদ। আমাদের দেশের মানুষজন এ গাছের ফল শুধু সবজি হিসেবেই খেয়ে থাকে। কিন্তু এর পাতাতে নানাবিধ পুষ্টিগুণ থাকলেও সে সম্পর্কে ততটা অবগত নন। এ গাছের পাতাতে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’, যা একটি পরিপূর্ণ কমলা থেকে ৬ গুণ বেশি এবং ভিটামিন ‘এ’ দুই থেকে চার গুণ বেশি। শুধু যে ভিটামিন আছে তা নয়, বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ রোগ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা, বাতের ব্যথা নিরাময়েও দারুণ কাজ করে এ গাছের পাতা। সজনার পাতাকে একটি সুনির্দিষ্টি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করানো গেলে মানবদেহে পুষ্টিজনিত কোনো সমস্যা থাকবে না। এমন পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্বব্যাপী গাছটি মিরাকল ট্রি হিসেবে পরিচিত।

অথচ আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে সজনা গাছ থাকলেও আমরা এর উপকারিতা ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারছি না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কাজ শুরু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনজুর হোসেন। দীর্ঘদিন গবেষণার পর তিনি পাতাগুলো প্রক্রিয়া করে এক ধরনের পাউডার তৈরিতে সক্ষম হন।

তার উদ্ভাবিত এই পাউডারটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ গ্রাম বা এক চা চামচ পরিমাণ গুড়া পানির এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’সহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণ পাবে মানবশরীর।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রচুর পরিমাণে এ গাছ পাওয়া যায়। বাংলাদেশেও অসংখ্য পরিমাণে এ গাছ রয়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় আমাদের কাছে যেন এর গুরুত্ব নিতান্তই কম। কিন্তু জাপানি এক গবেষক কিনজি টিসুজি গাছটির পাতার গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং রাবি অধ্যাপক মনজুর হোসেন যে এই গাছ নিয়ে কাজ করছেন তা জানতে পারেন। পরে টিসুজি অধ্যাপক মনজুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তাদের যৌথ উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বদ্ধভূমি সংলগ্ন এলাকায় ১ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার সজনা গাছের চারা এবং গাছটির দেড় হাজার ডাল রোপণ করেন। বিশ্বব্যাপী এই পাউডারের ব্যবহার সমাদৃত করাই তাদের উদ্দেশ্য। তাই প্রতিবছরই আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ চারা ও গাছের ডাল বিভিন্ন জমিতে রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। রোপিত এই চারাগুলো থেকে যে পরিমাণ পাউডার উৎপন্ন হবে তার পুরোটাই জাপানের জন্য কিনে নিয়ে যাবেন কিনজি টিসুজি।    

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, সজনা গাছকে এর পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্বব্যাপী মিরাকল ট্রি হিসেবেই ডাকা হয়। বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতা, বাতরোগ, উচ্চরক্ত চাপ একটি বড় সমস্যা। এসব রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি শিশুদের মেধা বিকাশে, ক্ষয়জনিত রোগ প্রতিরোধে গাছটির পাতা খুব উপকারী। যেহেতু সজনা পাতায় অনেক পুষ্টি ও নানা রোগের উপকারিতা রয়েছে সেটিকে মানুষের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।