।। বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ।।

নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো বাংলাদেশকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ঢাকায় আয়োজিত এক নাগরিক সম্প্রীতি সভায়।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস আয়োজিত ওই সভায় বক্তারা এসব ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মত দেন।

সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। দেশে নারী ও সংখালঘুদের উপরে যেভাবে নির্যাতন অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে তাতে আমরা বড় ধরণের সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি বলে আশঙ্কা হচ্ছে।” যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে এগুলো ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে সাংঘর্ষিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, “দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে প্রতিনিয়ত নির্যাতন, জুলুমের ঘটনা ঘটছে। তাদের ভূমি জবরদখল করা হচ্ছে। তাদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার উদাসীন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে, ওই এলাকার সংসদ সদস্যরা যেনো জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনকে জবাবদিহিতার নিয়ে আসেন তিনি এই আহবান জানান।

আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাস এর টেকনোক্র্যাট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার আইন এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা আইন জাতীয় সংসদের কার্যবিধিতে অন্তর্ভূক্তিকরণ ও অনুমোদনের দাবি জানান।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে। কিন্তু সমাজে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার দিকে তাকালে মনে হয় আমরা যেনো পাকিস্তানী ধ্যান ধারণা বা আদর্শ ভুলতে পারছি না। দেশে রাজনীতি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দেশের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় রাষ্ট্র ক্ষমতায় কে আছে আর কে গেল তাতে খুব একটা পার্থক্য করা যায় না। সম্প্রীতির কথা বললেই সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। যদি না রাজনীতির প্রতি তারা আস্থাশীল থাকেন।”

স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও ইন্টার রিলিজিয়ান হারমনি সোসাইটির মহাসচিব ড. মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, “বর্তমানে দেশে নারীর প্রতি যে ধরণের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, প্রকাশ্যে নারীর পোশাক যেভাবে খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে সেই চিত্র প্রায়শই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।”

বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, “একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশে যে নাগরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা পায়, সেই চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত।”

ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “বর্তমানে দেশে প্রতিটি বিবেকবান মানুষ সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। সমাজে সত্যি কথা বলতে গেলে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই তার উপরে নেমে আসছে হুমকি।”

সভাপতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, “সমাজে যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন। যারা অসাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির কথা বলেন, তাদের সাথে রাষ্ট্রের আচরণ নেতিবাচক।”

নাগরিক সম্প্রীতি সভায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, নর্থ সাউথ ইউনিভিার্সিটির ছাত্র ফাহিম সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।