।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইনের একটি পাত দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। সেই লাইন ধরে যাওয়ার সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়তে হতো সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’কে। কিন্তু স্কুলছাত্র আবুল হোসেনের (১৪) বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেয়েছে ট্রেনটি। বিপদ থেকে বাঁচলেন ট্রেনটির পাঁচ শতাধিক যাত্রীও।

মঙ্গলবার (৭ মে) রাতে দ্বিখণ্ডিত রেললাইনের পাতটি দেখতে পেয়ে আবুল হোসেন গ্রামবাসীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের নজরে আনলে সেই ট্রেনটি পথে থামিয়ে দেওয়া হয়। এতে এড়ানো যায় দুর্ঘটনার শঙ্কাও। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে স্কুলছাত্র আবুল হোসেন।

সে ওই উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ঈদগাহ টিলা এলাকার বাসিন্দা এবং কমলগঞ্জের কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাতে বাড়ি ফেরার সময় টর্চলাইটের আলোয় আবুল হোসেন দেখতে পায়, ঈদগাহ টিলা এলাকায় রেললাইনের একটি পাত ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে আছে। এ অবস্থায় ট্রেন চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে সে গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানায়। পরে গ্রামের লোকজন শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ফারুক আহমদকে জানানো হলে তিনি শমশেরনগর স্টেশন মাস্টার এবং রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান।

তাৎক্ষণিক সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি শমশেরনগর স্টেশনে আটকে দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত ভাঙা রেলপাত সরিয়ে নতুন একটি পাত প্রতিস্থাপন করা হয়।

শমশেরনগর স্টেশন মাস্টার কবির আহমদ বলেন, রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস পৌঁছার কথা ছিল। এর আগে স্থানীয় ফারুক মেম্বার ফোন করে বলেন- ঈদগাহ টিলা এলাকায় রেললাইনে সমস্যা হয়েছে। আমি খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গলে রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগকে বিষয়টি জানাই। পরে ভাঙা রেলপাত সরিয়ে নতুন একটি পাত স্থাপন করা হয়। আধা ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।