।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ৯ দফা দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করেছেন পাটকল শ্রমিকরা। উৎপাদন বন্ধ রেখে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরায় সড়কে অবস্থান নিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলের শ্রমিকরা। তারা সড়কে নামাজ আদায় ও ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মঙ্গলবার (৭ মে) সকাল থেকে কয়েকশ শ্রমিক ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ায়ে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেক শ্রমিকের হাতে লাঠি দেখা গেছে। এজন্য যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে লতিফ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম মিলের শ্রমিকরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। ওই দুই মিলের উৎপাদন বন্ধ করে তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানা গেছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন ও মজুরি কমিশনসহ ৯ দফা দাবিতে এর আগেও তারা দফায় দফায় কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু বারবার আশ্বাস দিলেও সরকার শ্রমিকদের বিষয়টি আমলে নেয়নি। আর বিজেএমসি শ্রমিকের ভাগ্য ও দাবি আদায় নিয়ে বরাবরই ছিনিমিনি খেলছে।

এর আগে ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ, সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের পক্ষ থেকে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট কর্মসূচি ডাকা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে দাবি পরিশোধের চিঠি পেয়ে ১৭ এপ্রিল শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে কাজে ফিরে যান।

শ্রমিকরা জানান, ১০ সপ্তাহের বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা ছিল গত ২৫ এপ্রিল। আর মজুরি কমিশনের বিষয়টি আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সম্পাদন করার কথা। তবে তার কোনোটাই এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ১৮ মে’র মধ্যে যদি কর্তৃপক্ষ মজুরি কমিশনের বিষয়টি সমাধান না করে তাহলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা।

পাটকলের নারী শ্রমিকরা বলেন, আমাদের রোজা, নামাজ, ঈদ সব রাস্তায় হবে। আমাদের পাওনা দেওয়ার কথা ছিল, অথচ আমরা এখনও তা পাইনি। আঁখি নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা এতদিন ঘরে থাকার চেষ্টা করেছি। এখন আর থাকা যাচ্ছে না। কারণ আমরা ঋণে জর্জরিত।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছি। ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পাটকল শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি ও বেতন প্রদান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ দ্রুত বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ-গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাট কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা।