।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।। 

৫০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে প্রতিবেদনকারী ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনের শহরতলীর একটি কারাগার থেকে তারা মুক্তি পেয়েছেন। মিয়ানমারের সরকারি গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যদের আমন্ত্রণে রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন মিয়ানমারে কর্মরত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও। পরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখায়। রাখাইনের ইন দিন গ্রামে সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার ওপর অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই মামলার কবলে পড়েন তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে সাত বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করে ইয়াঙ্গুনের একটি জেলা আদালত। নভেম্বরের শুরুতে ইয়াঙ্গুনের হাইকোর্টে দুই সাংবাদিকের পক্ষে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা। ডিসেম্বরে শেষ হয় আপিল শুনানি। আর ১১ জানুয়ারি দেয়া হয় রায়। এতে আপিল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখা হয়। তবে নতুন বছর উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্টের রাজক্ষমার আদেশে ৫০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন তারা।

রয়টার্স দাবি করে আসছিল, তাদের দুই সাংবাদিক কোনও অপরাধ করেননি।

ইনসেইন কারাগার থেকে দুই সাংবাদিক যখন বের হয়ে আসেন তখন সেখানে অনেক সংবাদকর্মী ও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। ওয়া লোন তাদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। বার্তাকক্ষে যাওয়ার জন্য আমার আর তর সইছে না।

দুই সাংবাদিকের মুক্তির বিষয়ে মিয়ানমার সরকার ও রয়টার্সের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন মিয়ানমারের দুই রয়টার্স সাংবাদিক। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আরও বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন তারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে,  ফরেইন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, পেন/বারবেই ফ্রিডম টু রাইট অ্যাওয়ার্ড, ওসবর্ন এলিয়ট প্রাইজ, ওয়ান ওয়ার্ল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, জেমস ফলে মেডিল মেডাল ফর করেজ ইন জার্নালিজম, আইআরই’র ডন বোলস মেডাল এবং ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের আবুশন প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড।

আটক হওয়ার সময়ে ওই দুই সাংবাদিক রাখাইনের ইন দীন গ্রামে ১০ রোহিঙ্গা হত্যার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। সেনা অভিযানের মধ্যে এই রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্থানীয় অধিবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মিলে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। রয়টার্স ওই ঘটনার খবর প্রকাশের পর মিয়ানমার প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মীকে কারাদণ্ড দেয়।

Digiprove sealCopyright protected by Digiprove © 2019
Acknowledgements: বাংলা ট্রিবিউন
All Rights Reserved