।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দু’জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার  (৬ মে ) এ দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের  বিচারক মো. মজিবুর রহমান পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ মে দিন ধার্য করেন।

সাক্ষীরা হলেন— বিল্লাল হোসেন ও সোহরাব ।এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদসহ একাধিক আইনজীবী তাদেরকে (সাক্ষী) জেরা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার রুহুল আহমেদ এ তথ্য জানান। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ পর্যন্ত মামলাটিতে ৩৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন ট্রাইবুনাল।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে একই বছরের ৮ আগস্ট আটজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়।

গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ৩০ জুলাই অভিযোগপত্র গ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য দিন ধার্য করেন। এরপর ৭ আগস্ট ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি পৌঁছায়।

অভিযোগপত্রে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা ৮ আসামি হলো— হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।

এদের মধ্যে আসামি মামুনুর রশিদ পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি সাত জন আসামি বর্তমানে কারাগারে আছে।

ঘটনাস্থলে মামলার ৫ আসামি নিহত হয়। তারা হলো— রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এছাড়া, বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত আট আসামি হলো— তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।