Zee5 Contract Coming Soon

।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে সীমানা জটিলতার অভিযোগ এনে অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে রিট করায় রিটকারীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন এই উচ্চ আদালত। ফলে ২০১৫ সাল থেকে স্থগিত থাকা উপজেলাটির নির্বাচনে আর কোন বাধা থকলো না।

সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো.খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাফর সাদিক। অন্যপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।

মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ বলেন, ‘২০১৪ সালের চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরের বছর উপজেলা চেয়ারম্যানের মৃত্যু হলে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল বারীসহ নয়জন উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের মুরশইল ও কেচুয়াতৈল গ্রামের সীমানা নিয়ে জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে একই সীমানা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো প্রকার আইনের আশ্রয় নেয়নি। কেবল তারা উপজেলা নির্বাচনে রিট করে স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচন আটকে রেখেছেন। চলতি বছরের শুরুতে ওই উপজেলার নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করলে হাইকোর্টের এক আদেশে নির্বাচন কমিশন তা স্থগিত করেন। পরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনসুর রহমান রিটে পক্ষভুক্ত হয়ে নির্বাচনের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিতে আবেদন করেন। সোমবার শুনানি শেষে আদালত স্থগিতাদেশ তুলে রুল খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে রিট করে নির্বাচনে বিলম্ব করায় আবেদনকারীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এখন ওই উপজেলার নির্বাচন হতে কোনো বাধা নেই।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পবায় দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জামায়াতের নেতা মোকবুল হোসাইন। ওই নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আশরাফুল হক তোতা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হন জামায়াতের খায়রুন নেছা। ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা অধ্যাপক মোকবুল হোসাইন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কয়েকমাস পরে নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করেন।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টে রিট করেন ফজলুল বারী। তিনি পারিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলুর ভাই। হাইকোর্টে রিট করায় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই দিন আগে উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

২০১৯ সালে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১০ মার্চ এখানে ভোটগ্রহণের কথা ছিল।

চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি হলে নির্বাচন এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। আবারো আটকে যায়, সীমানা জটিলতায় আটকে গেলো রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।

বর্তমানে পবায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জামায়াতের প্রার্থী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুন নেসা।

সোমবার সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন স্থগিত আদেশ বাতিল হয়। রোববার এ স্থগিত আদেশ বাতিল করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়াও এই হয়রানিমূলক মামলাটি খারিজসহ মামলাকারির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এখন পবা উপজেলা নির্বাচনে আর কোন বাধা নেই।

এব্যাপারে সাইফুল বারী ভুলু বলেন, ‘মহামান্য আদালতকে সন্মান করে বলছি, আমার সীমানা জটিলতা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাথে। নির্বাচনের সাথে নয়’।