।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ফলে জিসান নামের ৪ বছরের একটি শিশু আহত হয়েছে। পাথরের আঘাতে শিশুটির মাথার পেছনে এক ইঞ্চি মতো ক্ষত হলেও চিকিৎসার জন্য তাকে চলন্ত ট্রেনেই অসহায়ের মতো দীর্ঘক্ষণ রাজশাহীতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। শিশুটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে রেলওয়ে পশ্চিম বিভাগের জিএম খোন্দকার শহিদুল ইসলাম অন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে শিশুটিকে দেখতে সোমবার (৬ মে) দুপুরে রামেক হাসপাতালে যান।

শিশুটির বাবা মো. সালাম জানান, তারা গতকাল রোববার (৫ মে) পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে স্বপরিবারে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসছিলেন। এসময় ট্রেনটি সন্ধ্যা নাগাদ জামতইল স্টেশনের কাছে আসলে চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে পাথর ছুটে এসে জিসানের মাথার পেছনের অংশে আঘাত করে। এসময় জিসান চিৎকার দিয়ে ওঠে। তার মাথা ও ঘাড় রক্তে ভেসে যেতে থাকে। তার বাবাসহ ট্রেনের বগিতে থাকা অন্য যাত্রী দ্রুত মাথার ক্ষতস্থানে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দেয় ও পানি ঢালতে থাকে। তবে চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে অপেক্ষা করতে হয়। রাত ৯টার দিকে ট্রেনটি রাজশাহীতে পৌছলে পরিবার তাকে দ্রুত রামেকে নিয়ে যায়।

আহত শিশু জিসানকে দেখতে যান রেলওয়ের পশ্চিম বিভাগের জিএম খোন্দকার শহিদুল ইসলাম

রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করায়। সেইসাথে মাথার প্রয়োজনীয় টেস্ট করতে বলে।

আহত শিশুটিকে দেখতে এসে রেলওয়ে পশ্চিমের জিএম খোন্দকার শহিদুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। আমাদের পুরো জাতির জন্য এটা লজ্জার। ফুটফুটে শিশুটিকে দেখেই মায়া লাগছে।

তিনি আরো জানান, এই বিষয়টি প্রতিরোধে শুধু রেল কর্তৃপক্ষ নয় সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এমন ঘটনা প্রতিরোধে রেলের কঠোর আইন আছে। তবে শুধু আইন দিয়ে এই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।