।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ। শনিবার এক সামরিক মহড়ায় ওই উৎক্ষেপণ যন্ত্রগুলো থেকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম এমন কৌশলগত অস্ত্র ছোড়া হয়, বলেছে তারা। জাপান সাগরে পিয়ংইয়ং বেশ কয়েকটি ‘স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে’- দক্ষিণ কোরিয়ার এমন দাবির একদিন পর কেসিএনএ এ রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কথা জানাল বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এ সামরিক মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল বড় আকারের দূর পাল্লার একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্র এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এমন অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা, বলেছে উত্তরের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। খবরের সঙ্গে এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ছবিও দিয়েছে কেসিএনএ। এতে উত্তরের শীর্ষ নেতা কিমকে রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্রের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।

উত্তর কোরিয়া তাদের উৎক্ষেণপ যন্ত্র থেকে যে অস্ত্রগুলো ছুড়েছে, ছবি দেখে সেগুলোকে স্বল্প পাল্লার, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলছেন কোরিয়ার কিয়াংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের সেনা বিশেষজ্ঞ কিম ডং-ইয়ব।

এ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লংঘন হলেও, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি হিসেবে দেখে এমন দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ না করায় ওয়াশিংটন স্বস্তি পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

অপ্রত্যাশিতভাবে যা আমাকে উদ্বেল করেছে, তা হলো- ছবিতে দেখা স্বল্প পাল্লার, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উত্তর কোরিয়ারন এ ক্ষেপণাস্ত্রটি পরিচিত ইস্কান্দের নামে, বলেছেন তিনি। ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে গিয়ে লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারা নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আওতায় পড়ছে পুরো কোরীয় উপদ্বীপ; দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বসানো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থানা ‘থাড’কেও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিস্ক্রিয় রাখতে পারবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পিয়ংইয়ংয়ের এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মাত্রা ৭০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার বলে দাবি করে আসছে। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে ভিয়েতনামে কিম-ট্রাম্প বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর পিয়ংইয়ং এ পরীক্ষা চালাল।

কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বন্ধে এ ধরনের পরীক্ষা থেকে পিছিয়ে আসতে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিউল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কিমের সঙ্গে একটি চুক্তির ব্যাপারে তিনি এখনও আশাবাদী।

আমার বিশ্বাস কিম জং ‍উন উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টি অনুধাবন করছেন; এতে বাধা পড়ুক বা এ বিকাশের পথ বন্ধ হোক, এমন কিছুই করতে চাইবেন না তিনি। তিনি জানেন আমি তার সঙ্গে আছি। তিনি আমাকে দেয়া তার প্রতিশ্রুতি ভাঙতে চাইবেন না। অবশ্যই চুক্তি হবে,” বলেছেন তিনি।

শনিবার উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলবর্তী শহর ‍ওনসেন থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে পিয়ংইয়ং জাপান সাগরে ‘স্বল্প পাল্লার বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে’ বলে জানায় দক্ষিণের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ। পিয়ংইয়ং গত মাসে কিমের উপস্থিতিতে নতুন একটি ‘কৌশলগত অস্ত্রের’ সফল পরীক্ষার কথাও জানিয়েছিল।