‘ফণি’র অভিজ্ঞতায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের তাগিদ

।। জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

আগামী অর্থবছরে রাজশাহীতে দুটি দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা সক্ষমতা বাড়াতে জেলার মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলায় এই দুটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

সুপার সাইক্লোন ‘ফণি’কে কেন্দ্র করে বরেন্দ্র অঞ্চলের বাসিন্দাদের এবারই প্রথম অভিজ্ঞতা যে, টর্নেডো, সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে সমতলের ভূমিতেও। একই অভিজ্ঞতা স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের।

তাদের মতে,জলবায়ু পরিবর্তনে চরিত্র বদলেছে বিভিন্ন ধরনের দূর্যোগের। সেকারণে উপকূলীয় অঞ্চলের বাইরে সমতলেও আছড়ে পড়ছে ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডো। এর থেকে জানমাল রক্ষায় আপৎকালীন আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করছে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ২৯ শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় দেশের ইতিহাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক ভয়ংকর অধ্যায়। ওই সাইক্লোনে নিহত হয়েছিল এক লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ।বিস্তীর্ণ উপকূলে ধ্বংস হয়েছিল বসতবাড়ি, গাছপালা। সেই সাইক্লোনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ ছিল আশ্রয় কেন্দ্রের অপ্রতুলতা ।

রাজশাহী নগরীর বাসিন্দা মনিরা জামান মিঠি বলেন, ফণি’র কারনে আপৎকালীন আশ্রয়স্থল হিসেবে স্কুল কলেজ প্রস্তুত করেছিলো প্রশাসন। কিন্তু সেগুলো কতটা কার্যকরী সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সেকারনে উপজেলা পর্যায়ের দুর্গম এলাকা, চর অঞ্চলসহ সিটি কর্পোরেশনে আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ জরুরি।

কলেজ শিক্ষক মিলন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে পুরো বিশ্বই সংকটে। সে সংকট আমাদের আরো বেশী। ব্যাপরাটা এমন নয় যে, আর ঘটবে না। বরং বলা ভালো এমন দুর্যোগ আরো বেশী বেশী হওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সেকারণে আশ্রয়কেন্দ্র গড়া সময়ের দাবি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সুত্রে, রাজশাহী পবা উপজেলার শামপুরে এরইমধ্যে তিনতলা বিশিষ্ট একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। যা শ্যামপুর বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।

আগামী অর্থবছরে মোহনপুর ও বাগমারায় নির্মিত হতে যাচ্ছে আরো দুটি তিনতলা বিশিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্র। যেখানে নিচের তলায় গরু, ছাগল অর্থাৎ গৃহপালিত প্রাণী এবং উপরের দুই তলায় মানুষ আশ্রয়স্থলে হবে।

সুত্রমতে, আশ্রয় কেন্দ্রের প্রতিটি তলার আয়তন ৪ হাজার ২৬২ দশমিক ৭৫ বর্গফুট।প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে আলাদা কক্ষ। মহিলা ও শিশুদের জন্য চারটি করে কক্ষ ও আলাদা বাথরুম। মেডিকেল ইমার্জেন্সি কক্ষ, ২০০ মেগাওয়াটের সোলার হোম সিস্টেম, ডিপ টিউবওয়েল থাকছে এসব আশ্রয় কেন্দ্রে।

রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, “আশ্রয়কেন্দ্রে আক্রান্ত মানুষের জীবন, প্রাণিসম্পদের আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। আগামীতে প্রতিটি উপজেলায় এ ধরনের আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রও জরুরি হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গে।