Zee5 Contract Coming Soon

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র আঘাতে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। নোয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে এবং দমকা বাতাসে ঘরবড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা সূবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রভাবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামে ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জন। শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মো. ইসমাইল (২) একই ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে।

সুবর্ণচর উপজেলার কন্ট্রোলরুমে দায়িত্ব পালনরত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামে ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে একজন নিহত ও চর ওয়াপদা ও চর জব্বর ইউনিয়নে ৩০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ‘ফণি’র প্রভাবে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি আর জানান, আহতদের সূবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুরে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র তাণ্ডবে শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শনিবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে গেছে ওই এলাকার গাছপালাও। তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এখন খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন শতাধিক পরিবার।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান জানান, ‘পদ্মা-মেঘনা বেষ্টিত রাজরাজেশ্বর ইউনিয়য়নে গাছপালা কম। গত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের পর থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে আঘাত হানে ইউনিয়নের মান্দেরবাজার এলাকায়। পরবর্তীতে মজিদকান্দি ও শিলারচর এলাকা ঝড়ের তাণ্ডব চলে। এছাড়া উড়ে গেছে চিরারচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের চাল।’ তিনি জানান, মাইকিং করে আগেই এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। এ জন্য হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মিজানুর রহমান আরও জানান, ‘চারদিক পদ্মা-মেঘনা বেষ্টিত এ ইউনিয়নে এখানও কোনও সাইক্লোন শেল্টার নেই। ঘূর্ণিঝড়ের খবরে আগেই মানুষজনকে মুজাফফরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রাজরাজেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিরারচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। এ কারণেই হয়তো প্রাণহানি এড়ানো গেছে।’

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাণিজ ফাতেমা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ৫০টি ঘর পুরোপুরি ধসে গেছে। আর বাকিগুলোর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। নদীর ওপারে হওয়ায় এই মুহূর্তে সেখানে আমাদের যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেখানে শুকনো খাবার দেওয়ার জন্য। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র তাণ্ডবে প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া শনিবার (৪ মে) সকালে ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে ঘর চাপা পড়ে রানী বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত রানী বেগম ওই এলাকার সামসুল হকের স্ত্রী।

এছাড়া শনিবার সকালে লালমোহনের কচুয়াখালী চর থেকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে কেউ নিখোঁজ হয়নি।

কচুয়াখালীর চর থেকে জেলে নাছির উদ্দিন জানান, শনিবার সকালে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মাইনুদ্দিনে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ৪-৫ জন আহত হলেও কেউ নিখোঁজ নেই।

ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচির (সিপিপি) উপ-পরিচালক সাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভোলাতে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৮০ কিলোমিটার। এখনও সাত নম্বর সংকেত বহাল রয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল আমিন জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রভাবে ফসল ও গাছপালা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র আঘাতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা, কানাইনগর, বৌদ্ধমারী ও জয়মনি এলাকায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাদ যায়নি গাছপালাও। ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির বাসিন্দারা রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় হতাহতের হাত থেকে বেঁচে যান বলে জানান চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার ইউপি সদস্য মো. সেলিম শেখ। তিনি আরও বলেন, রাতের অন্ধকারে ‘ফণি’র তাণ্ডবে অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি এ এলাকার নদী পাড়ের কানাই নগরের ছয় হাজার ফুটের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়।
ভোলায় ফণীর তাণ্ডব

শনিবার (৪ মে) সকালে উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাই নগরে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে গেছে শত শত বাড়িঘর রক্ষাকারী ওই বেঁড়িবাধ। সেখানে পশুর নদীর শক্তিশালী ঢেউ আছড়ে পড়ছে ভাঙা বাঁধের ওপর। তা দেখে আতঙ্কে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

উপজেলা দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. নাহিদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাঁধটি ভেঙে পড়ার খবর শুনেছি। এরইমধ্যে সেখান থেকে ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

এছাড়া মধ্য রাতের ঝড়ে উপজেলার সুন্দরতলা, জয়মনি, কাটাখাল, চিলা, বৌদ্ধমারী, কানাইনগর ও বুড়িরডাঙ্গা এলাকার কয়েকশ কাঁচা বসত বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান। এসময় কোনও হতাহতের না ঘটলেও এলাকার গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে শনিবার সকালেও উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। তাদের উপজেলা প্রশাসন থেকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।