Zee5 Contract Coming Soon

।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

সুপার সাইক্লোন ফণির প্রভাব এরই মধ্যে রাজশাহীতে পড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে এক পশলা বৃষ্টি হলেও দুপুর থেকে রাজশাহীর আকাশে মেঘ কালো করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আজ শনিবারেও চলছে সেই বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। ফণির ফণায় শহুরে জীবনযাত্রায় এখন পর্যন্ত সামান্য প্রভাব পড়লেও গ্রাম অঞ্চলের কৃষকদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তারা জমির ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম সময় পার করছেন।

এদিকে ফণির বিরূপ প্রভাব থেকে জমির ধান রক্ষার্থে ৮০ শতাংশ পাকলেই তা কেটে নিতে বলা হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে। শুধু ধানই নয় জমিতে থাকা অন্য সকল পরিপক্ক বা কেটে নেবার উপযোগী ফসলগুলো তুলে নিতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ফণির প্রভাবে এ অঞ্চলে ৮০ থেকে ১২০ কি.মি. বেগে ঝড়ের পাশাপাশি টানা ৪ দিন বৃষ্টি হতে পারে। আর সে কারণেই কৃষকদের জমির ফসল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে এই উপদেশ দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, শুধু রাজশাহী জেলায় ৭০ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে এবার ধান চাষ করা হয়েছে। ফণির কারণে পুরো দেশের কৃষকদের আগেই সতর্ক করে বলে দেয়া হয়েছে ‘যেসকল জমির ধান ৮০ ভাগ পেকে গেছে তা কেটে ঘরে তুলে নিতে’।

তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত কৃষকরা ১০ ভাগ জমির ধান কাটতে সম্ভব হয়েছে। জমিতে থাকা কাঁচা ধানের ক্ষতি না হলেও ফণির কারণে পাকা ধানগুলোর ক্ষতি হতে পারে। আর এই আশঙ্কা থেকেই কৃষকদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য এই উপদেশ দেয়া হয়েছে।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন তাদের দুরাবস্থার কথা। এবার ধানের মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের অভিযোগ উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম। তবে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা জমির ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে।

তারা বলছে, জমির অধিকাংশ ধান এখন পর্যন্ত কেটে ঘরে তোলার উপযোগী হয়নি। যা কাটার মতো হয়েছে, তা কাটার জন্য পর্যাপ্ত জনবল পাওয়া যাচ্ছে না। আর যে জনবল পাওয়া যাচ্ছে তার আকাশ ছোয়া মজুরি চাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।

তানোর উপজেলার কৃষক আক্কাছ আলী জানান, তিনি এবার ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করছেন। তার জমির সব ফসল কাটার উপযোগী হয়নি। সব মিলিয়ে ১৪ বিঘার মতো ধান তিনি এখন চাইলে কাটতে পারবেন। তবে ধান কাটার শ্রমিক তিনি পাচ্ছেন না। আজ বেশ কয়েক বছর থেকেই রাজশাহী অঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকদের আকাল পড়েছে। এক সময়ের ধান কাটা শ্রমিকরা এখন শহরমুখী।

মোহনপুর উপজেলার কৃষক রুহুল আমিন বলেন, গেল বার ধান কাটতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একজন শ্রমিককে দিতে হয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এবার ফণির সুযোগ বুঝে সেই শ্রমিকেরাই একবেলা অর্থাৎ শুধু সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ধান কাটতে চাইছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

বাগমারা উপজেলার কৃষক সুরমান জানান, এবার শুরু থেকে ধানের যে দাম শুনছি তাতে করে আমার উৎপাদন খরচই উঠবে কি না তা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তিনি অভিযোগের সুরে জানান, ‘এক মণ ধান বেচে এক কেজি গরুর মাংসও ঠিক মতো জুটছে না। তার সাথে নতুন আপদ ফণি। এর ফণায় এবার কৃষকদের মাজাই বেঙে যাবার যো’।