Zee5 Contract Coming Soon

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

আর মাত্র কয়েকদিন পরই পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্বক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরের। আগামী ৩০ মে স্বাগতিক দেশ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিশ্বকাপ শুরু হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এরমধ্যেই নিজেদের দল চূড়ান্ত করেছে, চলছে প্রস্তুতি। তবে এই দেশগুলোর জাতীয় ক্রিকেটাররাই শুধু নন, সংসদ সদস্যরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্রিকেট মাঠে!

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মাঝামাঝি ৯ থেকে ১৩ জুলাই বিশ্বকাপে অংশ নেয়া দেশগুলোর সংসদ সদস্যদের নিয়ে আরেকটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেটির নাম দেওয়া হয়েছে ইন্টার পার্লামেন্টারি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ। মূলত আইসিসি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যই এই আয়োজন। সংসদ সদস্যদের মধ্যে ক্রিকেট মাঠের প্রতিযোগিতা ছাড়াও থাকবে বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান। এছাড়াও আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যরা ১৪ জুলাই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে মাঠে বসে মূল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখবেন।

ওদিকে মূল বিশ্বকাপের জন্য মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের প্রস্তুতি ও কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি বসে নেই সংসদ সদস্যরাও। ক্রিকেটপ্রিয় একঝাঁক তরুণ সংসদ সদস্য এরমধ্যে ব্যাট-বল হাতে মাঠে নেমেছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয় তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাঠে অনুশীলন করছেন সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নাহিম রাজ্জাক, শেখ তন্ময়, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, জুয়েল আরেং, আয়েন উদ্দিন, রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ আরো অনেকে। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও খেলায় অংশ নেবেন। এখনো দল চূড়ান্ত না করা হলেও তরুণ সংসদ সদস্যদের অনেকেই অনুশীলন করছেন। মিরপুরের শেরে-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, ‘বাংলাদেশ দলে এবার অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেশি। অন্যান্যবারের চেয়ে এবারের দলটি অনেক বেশি শক্তিশালী। আমি আশা করি এবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হব।’

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবার জাতীয় ক্রিকেট দলকে নিয়ে আশাবাদী। বাংলাদেশ দল যেকোনো দলকে হারাতে সক্ষম। তাছাড়া গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক ভালো ফলাফলই বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। আর সংসদ সদস্যদের দলটিও যদি ফাইনালে ওঠে, তবে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারকে ফাইনালে খেলা দেখতে ইংল্যান্ড যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন তিনি। এতেই বোঝা যাচ্ছে, প্রত্যাশার পারদ কতটা উপরে। অন্যদিকে, সংসদ সদস্যদের টুর্নামেন্টে যে দলটি অংশ নেবে, তাতেও অংশ নিতে পারেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কারণ ক্রিকেটার পরিচয়ের পাশাপাশি তিনিও এখন সংসদ সদস্য। মাশরাফি এতে অংশ নিলে দলে সাবেক অধিনায়ক দুর্জয়সহ পেশাদার ক্রিকেটার হবেন দুজন। এই দুজনের অভিজ্ঞতা তো থাকছেই, এছাড়া এবারের সংসদে নির্বাচিত প্রায় পঞ্চাশজন তরুণ সদস্যের অনেকেই ক্রিকেট খেলায় পারদর্শী। মহিবুল হাসান নওফেল তো ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সময় মাঠে নিয়মিতই খেলতেন। জুয়েল আরেং একসময় ক্রিকেট ও ফুটবল খেলেছেন। মাঠের নেটে অনুশীলনে নাহিম রাজ্জাক ভালো ব্যাটিং করছেন। আর শেখ তন্ময়ের মতো তরুণ সংসদ সদস্য ব্যাট-বল হাতে যেকোনো সময় মাঠে নেমে পড়ার জন্য ফিট তো বটেই। ফলে এই দলটিকে নিয়েও আত্মবিশ্বাসী হওয়া যেতেই পারে। যাঁরা খেলার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, ট্রায়ালের পর তাদের মধ্য থেকে বিশজনকে নির্বাচন করা হবে।

এর আগেও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলতে গেছেন। তবে তা ছিল দু দেশের মধ্যে। বিশ্বকাপের মতো বহুদেশীয় আসরে অংশগ্রহণ এবারই প্রথম। যেহেতু এই টুর্নামেন্টের নামের সঙ্গে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ লেখা আছে, তাই প্রস্তুতির ব্যাপারে প্রত্যেকেই সিরিয়াস বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়। চূড়ান্ত দল নির্বাচনের ভার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিসিবির কোচিং স্টাফদের ওপর। দলকে কোচিং করানোর জন্য জাফরুল এহসান ও দীপু রায় চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবধরনের সহায়তার জন্য বিসিবি তো আছেই। এই টুর্নামেন্টে ভারতের হয়ে খেলবেন শচীন টেন্ডুলকার ও সিধু। শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলবেন অর্জুনা রানাতুঙ্গার মতো একসময়কার তারকা খেলোয়াড়। ফলে ভালো করতে হলে জোর প্রস্তুতির বিকল্প নেই, এটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন সংশ্লিষ্টরা। টুর্নামেন্টটিকে মর্যাদার লড়াই হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। মূল বিশ্বকাপের পাশাপাশি তাই এবার আগ্রহ ও উন্মাদনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সংসদ সদস্যদের বিশ্বকাপ।