।। কনটেন্ট এডিটর, ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্ক ।।

সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে আগেভাগেই সতর্ক করা হয়েছিলো শ্রীলঙ্কাকে। কিন্তু যথাসময়ে সেই তথ্য সরকারের শীর্ষ মহলে যায়নি। আর সেই সুযোগেই শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলসহ ৮ স্থানে প্রাণঘাতী হামলা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের হামলায় প্রাণহানির ভয়াবহতা এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

বিদেশি গণমাধ্যমগুলোর আলোচনায় উঠে এসেছে, এই ব্যর্থতার নেপথ্যে রয়েছে দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব, যা গেলো বছর সাংবিধানিক সংকটের আবর্তে তৈরি হয়েছিলো।

কূটনৈতিক মহলে প্রচলিত ধারণা অনুসারে, রাষ্ট্রপতি মৈত্রীপালা সিরিসেনাকে চীনের ঘনিষ্ঠ ও প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহেকে ভারতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সিএনএন জানায়, গেলো বছর যখন দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের চেষ্টা চালায়, তখন থেকেই সংকটের সূত্রপাত। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে এবং প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে টিকে যান। কিন্তু বিভেদের গভীর ক্ষত থেকেই যায়।

শ্রীলঙ্কা হামলার পরে দেশটির মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা আগাম গোয়েন্দা তথ্য পেয়েও হামলা ঠেকানোর ব্যর্থতার জন্য রাষ্ট্রপতি সিরিসেনাকে দায়ী করেন। সিরিসেনা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগাম গোয়েন্দা তথ্য পেয়েও হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার মূল কারণ, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির অফিস দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে অবহিত না করা। ফলে প্রধানমন্ত্রীর অফিস কার্যত এই হামলার আগাম সতর্কতা প্রশ্নে অন্ধকারেই ছিলো।

মার্কিন সংবাদপত্রটি আরও জানায়, হামলার একঘণ্টার মধ্যেই শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুনির্দিষ্ট কয়েক জায়গায় অভিযান চালায় এবং ২৪ জন সন্দেহভাজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। ধারণা করা যায়, তারা জানতো, এই গ্রুপটি কোত্থেকে কাজ চালায় এবং সে কারণেই খুব দ্রুতই তাদের আস্তানা খুঁজে বের করতে পেরেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে দাবি করে, কেন সেই গোয়েন্দা তথ্য ধরে আগেই ব্যবস্থা নেয়া হলো না এবং কী কারণেই বা প্রধানমন্ত্রীসহ আরও অনেকেই সেই আগাম তথ্য পেলেন না, সেই প্রশ্ন জোরেশোরে উঠেছে। এই ইস্যু শ্রীলঙ্কার সরকারকে নতুন সংকটে ফেলবে বলেও জানায় পত্রিকাটি।

যদিও সিএনএন জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার দূরত্ব মিটে গেছে বলে দাবি করে বলেছেন, তারা এখন হামলাকারীদের মূলোৎপাটনে কাজ করছেন।

আর রাষ্ট্রপতি সিরিসেনা দাবি করেছেন, এ ধরনের আগাম কোনো গোয়েন্দা তথ্য তিনি পাননি। তিনি বলেছেন, “যথাযথ লোকদের কাছ থেকে এমন কোনো তথ্য পেলে আমি অবশ্যই হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করতাম।”