।। জি নিউজ, নয়াদিল্লি ও বিবিসি, কলম্বো ।।

সন্দেহের তির এখন ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) নামের এক সংগঠনের দিকে। শ্রীলঙ্কা হামলায় দেশটির সরকারি সূত্রগুলোর কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। ২০১৪ সাল থেকে শ্রীলঙ্কায় সংগঠনটির নাম টুকটাক আলোচনায় এলেও এর জন্ম ভারতে, এমনটাই জানিয়েছে নয়াদিল্লিভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম জি নিউজ।

জি নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০০৪ সালে ভারতের তামিলনাড়ুতে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই সংগঠনটি। ২০১৮ সালে চেন্নাইয়ে এক মার্কিন নাগরিকের ওপর এই সংগঠনের সদস্যরা হামলা চালিয়ে আলোচনায় আসে।

জি নিউজ জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কা হামলায় জাহরান হাশিম ও আবু মোহাম্মেদ নামে যে দুজন আত্মঘাতীকে চিহ্নিত করা হয়েছে তারা এই এনটিজে’র সিরিয়া ফেরত সদস্য।

এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় রোববার একের পর এক চালানো যে বোমা হামলায় ২৯০ জন নিহত হয়েছে, তা স্থানীয় একটি গোষ্ঠী সন্ত্রাসীদের আন্তর্জাতিক এক নেটওয়ার্কের সহায়তায় ঘটিয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন।

গির্জা ও হোটেলে একযোগে চালানো হামলায় আরো অন্তত ৫০০ জন আহত হয়েছে।

এই হামলার জন্য স্থানীয়ভাবে অচেনা একটি জিহাদি গ্রুপ, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতকে দায়ী বলে মনে করছে শ্রীলঙ্কার সরকার। ফলে তদন্তকারীরা এখন এই গ্রুপটির প্রতি বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন।

যদিও কোন গোষ্ঠী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

আইএস সমর্থক এনটিজে

শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা বলছেন, এরা স্বল্প পরিচিত নতুন একটি গোষ্ঠী, যাদের সম্পর্কে কিছুদিন আগেও তেমন একটা জানা ছিল না।

কিছুদিন আগে একটি বুদ্ধ ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঘটনার সঙ্গে এই গ্রুপটি জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হয়।

বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে ২০১৬ সালে গোষ্ঠীটির একজন নেতাকে গ্রেপ্তারের পর প্রথম এটি আলোচনায় আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত গ্রুপটি ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী ধ্যানধারণা লালন করে।

শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, এই গ্রুপটি কাট্টাকুডি নামের একটি মুসলিম অধ্যুষিত শহরে ২০১৪ সালে গঠিত হয়। তবে এর আগে কোন মারাত্মক কোন হামলার চালানোর সঙ্গে এদের নাম শোনা যায়নি।

তবে দলটি তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপকে সমর্থন করতো বলে জানা যাচ্ছে।

অ্যালান কিনান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের শ্রীলঙ্কা বিষয়ক পরিচালক। তিনি ধারণা দিচ্ছেন যে ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত সম্ভবত সেই গোষ্ঠী, যারা গত বছরের একটি “ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ” একটি ঘটনায় জড়িত ছিল।

তিনি বিবিসিকে বলেন, “ডিসেম্বরে মারওয়ানেলা শহরে … বুদ্ধের কয়েকটি মূর্তি ভাঙ্গচুর করা হয়েছিল এবং এরপর পুলিশ এমন কয়েকজন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছিল, যারা একজন ধর্মপ্রচারকারীর ছাত্র ছিলেন বলে বলা হয়েছে। এই ধর্মপ্রচারকারীর নাম যে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, তা গতকালই বেরিয়েছে।”

শ্রীলঙ্কার ওই হামলায় ২৯০ জন নিহত হলেও, এখনো কেউ হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেনি। দেশটির সরকারও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি ঠিক কারা ওই হামলা করেছে, যদিও তারা এর মধ্যেই অন্তত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে ১০ দিন আগে ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতের দ্বারা চার্চে হামলার ব্যাপারে “বন্ধুপ্রতীম একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা” শ্রীলঙ্কার পুলিশকে সতর্ক করে দিয়েছিল বলে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম খবর দিচ্ছে।

ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মনোযোগ এখন ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতের দিকেই বেশি পড়েছে।

Digiprove sealCopyright protected by Digiprove © 2019
Acknowledgements: বিবিসি ও জি নিউজ
All Rights Reserved