।। বিবিসি, কলম্বো ।।

শ্রীলঙ্কা হামলায় স্থানীয় ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) জড়িত থাকলেও তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা দেশটির। এই ধারণার সঙ্গে একমত সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষজ্ঞরাও।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দি স্টাডি অব ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম-এর পরিচালক অ্যানি স্পেকহার্ড বলছেন, এই গ্রুপটির উদ্দেশ্য কোন বিপ্লব করা নয়, তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জিহাদীদের আন্দোলনকে শ্রীলঙ্কায় ছড়িয়ে দেয়া এবং সমাজে ঘৃণা, ভয় ও বিভেদ তৈরি করা।

রবিবার একসঙ্গে চার্চ ও বিদেশী পর্যটক অধ্যুষিত হোটেলে হামলা চালানো হয়েছে, যার সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বড় বড় ইসলামপন্থী জঙ্গি গ্রুপগুলোর হামলার মিল রয়েছে, বলছেন মিজ. স্পিকহার্ড।

সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্না বলেছেন, ইসলামিক স্টেট গ্রুপের শ্রীলঙ্কার শাখা হচ্ছে ওই ছোট সংগঠনটি, যারা চরমপন্থীদের হয়ে লড়াই করতে সিরিয়া আর ইরাকেও গিয়েছিল।

তবে শ্রীলঙ্কার সরকার বা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বোমা হামলাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় গ্রুপ জড়িত থাকলেও তারা আন্তর্জাতিক সহায়তা পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হামলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, ইসলামিক স্টেট অথবা আল কায়েদা এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

এরই মধ্যে এই হামলাকে সমর্থন করে আইএস জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসাবেই এই হামলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গৃহযুদ্ধ চলার সময় তামিল টাইগাররা আত্মঘাতী হামলাকে এক প্রকার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতো। সে সময় সরকারি কর্মকর্তা ও স্থাপনা লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা করা হতো। কিন্তু গির্জা এবং হোটেলে হামলার ঘটনা শ্রীলঙ্কায় একেবারে নতুন।

“দেশের ভেতরে থাকা একদল ব্যক্তি এসব হামলা করেছে এটা আমরা বিশ্বাস করি না,” কেবিনেট সেক্রেটারি রাজিথা সেনারত্নে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা বলেন।

তিনি বলেন, “এখানে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আছে, যাদের ছাড়া এ হামলা সফল হতো না”।

একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যদের ধরতে অন্যান্য দেশের সহায়তা চেয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।

অ্যান্টি-টেরোরিজম বিশেষজ্ঞ আলটো লাবেটুবান বলছেন, ”মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সঙ্গে মেলালে দেখা যায় ইসলামিক স্টেট এবং আল কায়েদার সঙ্গে এসব হামলার মিল রয়েছে।”

তিনি বলেন, ”যে মাত্রায় হামলাটি করা হয়েছে, তাতে আমার মনে হয় না যে শুধুমাত্র স্থানীয়রা এটি ঘটিয়েছে। সম্ভবত বিদেশী গ্রুপ বা লোকজন এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে – বিশেষ করে ভারত বা পাকিস্তান থেকে লোকজন আসতে পারে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলছেন, ”যারা এই হামলা চালিয়েছে,তাদের বিশেষ অপারেশন ক্ষমতা আর দক্ষ কমান্ডার রয়েছে তা বোঝা যায়।”

প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার দপ্তর জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শ্রীলঙ্কান জঙ্গিদের সঙ্গে বিদেশী সন্ত্রাসী চক্র জড়িত রয়েছে।