Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > মতামত > কংগ্রেস : মহাভারতের ভীষ্ম কিংবা জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস

কংগ্রেস : মহাভারতের ভীষ্ম কিংবা জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। সৌমিত্র দস্তিদার ।।


সৌমিত্র দস্তিদার ভারতের একজন আলোচিত তথ্যচিত্র নির্মাতা ও কলামলেখক


ঔপনিবেশিক সময় থেকে শুরু করে আজও ভারতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অবস্থা দুভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। মহাভারতের কৌরব পিতামহ ভীষ্ম বা সত্যজিৎ রায়ের ধ্রুপদী সিনেমা জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের সাথে।

সবাই জানেন যে, ভীষ্ম ছিলেন অসাধারণ বীর। তাকে হারানো যেতে পারে কিন্তু কোনোভাবেই তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা অসম্ভব। কংগ্রেসও তাই। লোকসভা নির্বাচনে এবারও গতবারের মতো মোদি ব্রিগেডের কাছে হারতে পারে। তবু শত চেষ্টাতেও তাকে দক্ষিণপন্থি বিজেপি কোনোভাবেই মুছে ফেলতে পারবে না।

বিজেপি তা খুব ভালো জানে। তাই তার যাবতীয় আক্রমণের লক্ষ্যে কংগ্রেস। অন্য বিরোধী দলের প্রতি আক্রমণ আছে। কিন্তু কংগ্রেসের প্রতি ঝাঁঝ অনেক অনেক তীব্র। আসলে কংগ্রেসের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদের লড়াই আজকের নয়। বহু পুরোনো।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার আগে থেকেই কংগ্রেসের মধ্যে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বনাম ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ছিল। কখনো কংগ্রেসের মধ্যে বামমনস্ক রাজনীতি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। কখনো আবার দক্ষিণপন্থি শক্তি।

সারাদেশের রাজনীতিতে একদা হিন্দু মহাসভা আরএসএস-এর পাশাপাশি কংগ্রেসের রাজনীতিতেও সময় সময় পরোক্ষ দক্ষিণপন্থা প্রাধান্য পেয়েছে। যারাই ভারতীয় রাজনীতির সামান্য চর্চা করেন তারাই একথা স্বীকার করবেন।

স্বাধীনতার আগে যেমন, এখনও তেমনই নানা গোত্রের রাজনীতির সমাহার সত্বেও কংগ্রেস মূলত একটি লিবারাল মধ্যপন্থি সংগঠন। কংগ্রেস সমুদ্রের মতো। নানা মতবাদ বহতা নদীর মতো সাগরে মেশে। ফলে সমুদ্রের মতোই তার গভীরতা মাপা মুশকিল।

ওপর থেকে যা দেখা যায় তা-ই কিন্তু আসল ছবি নয়। এটা আমি, আপনি বা ভারতীয় মিডিয়া যতটুকু জানে তার চেয়ে অনেক বেশি ভারতীয় জনতা পার্টি জানে বলেই প্রকাশ্যে  রাহুল গান্ধীকে “পাপ্পুটাপ্পু” বলে যতই সমর্থকদের হাততালি পাক না কেন, মনে মনে আদৌ নিশ্চিত নয়, কংগ্রেস কোথায়, কীভাবে, কতটুকু তাদের বাড়া ভাতে ছাই দিতে পারে।

এবার ভারতে সংসদীয় রাজনীতির লড়াই ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম হিন্দুত্ববাদের- যদি নাও বলি, অনেকটাই মোদি ক্যারিশমা বনাম সংগঠন এটা বলাই যায়। আরএসএস ও সংঘ পরিবারের সাংগঠনিক দক্ষতা মেনে নিয়েও বলব এই কবছরে রাজ্য রাজ্যে কংগ্রেস নীরবে ব্লক স্তর থেকে জেলা পর্যায়ে নিঃসন্দেহে নিজের সংগঠন মজবুত করতে পেরেছে।

টিম রাহুল গান্ধীর আপাত দেখনদারি না থাকলেও সর্বত্রই তাদের শরীরের ভাষা বলে দিচ্ছে বিনা যুদ্ধে সে সুচাগ্র মাটিও মোদি বাহিনীকে ছেড়ে দেবে না। বিদেশে শিক্ষিত
একঝাঁক তরুণ আজ রাহুল গান্ধীর পরামর্শ পরিষদের সক্রিয় মুখ। ওয়াকিবহাল মহল জানে, বিজেপির সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা নিয়ে তাদের হোমওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো।

সুতরাং, যারা কংগ্রেসকে জলসাঘরের বনেদি জমিদার বিশ্বম্ভর রায়ের মতো অতীতচারি বলে অবহেলা করছেন, তারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, এবারের ভারতীয় লোকসভা নির্বাচনে অনেকের অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হাসি কিন্তু হাসতে পারে কংগ্রেস।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: