।। নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ।।

দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া সংস্কারপন্থিদের উদ্যোগ মোকাবেলায় কৌশল নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করেন, অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের নিয়ে সংস্কারপন্থিরা নতুন উদ্যোগে নামবে। সে কারণেই ছাত্রশিবিরের সাবেক ৪ নেতাকে দলটির নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রে আনা হচ্ছে।

তাদের মধ্যে তিনজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ও একজন সিলেট মহানগরে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে কেন্দ্রের শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তারা মূল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

এই চার নেতা হলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম।

[interaction id=”5cb847976fdf9a4308e42904″]

জামায়াতের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ এই চার জামায়াত নেতার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, সারাদেশে ছাত্রশিবির থেকে উঠে আসা নেতাদের ক্রমাগত পরিচর্যায় রাখা। যাতে নতুন কোনো উদ্যোগে তাদের ভেড়ানো সহজ না হয়।

সূত্র মতে, দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া সংস্কারপন্থিদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ রাখছেন কি না, তা নজরদারির মূল দায়িত্বও দেয়া হয়েছে এই ৪ নেতাকে। প্রয়োজন অনুসারে তারা নেতাদের সঙ্গে ডেকে কথাও বলছেন।

সংস্কার হচ্ছে না, ক্ষমাও চাইবে না জামায়াত

সাবেক জামায়াত নেতা মঞ্জুর নেতৃত্বেই আসছে নতুন সংগঠন

দলটির উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার আমির নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জামায়াতের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, অপেক্ষাকৃত তরুণদেরকেই দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতারা কাজে লাগাতে চাইবেন। বিশেষ করে একাত্তরের দায় নেয়ার প্রশ্নে তারা তরুণদের কনভিন্স করতে চাইবেন। কিন্তু শিবিরের সাবেক নেতাদের সারাদেশের তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে একটা আলাদা সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক কাজে লাগানো সম্ভব।”

দলের একটি সূত্র জানায়, একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে যেনো তরুণ নেতারা দোলাচলে না পড়েন, সেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ওই চার নেতার ওপর। এরই মধ্যে তারা এমন কয়েক জনের সঙ্গে কথাও বলেছেন। সূত্রের দাবি, সেই আলাপগুলো ইতিবাচক।

সূত্র আরও জানায়, মূলত এই দলে আগামীতে তরুণদেরকেই মূল নেতৃত্বে আসতে হবে বলে জানানো হচ্ছে। সেই বিবেচনা থেকে রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে বোঝানোর কাজটি করছেন জামায়াতের ওই চার তরুণ নেতা।

যদিও এ বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো কথা বলতে চাননি নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, “আমরা সবাই দলের সঙ্গে আছি। দলের কাজ করছি। এখানে আলাদা করে বলার মতো কিছু নেই।” তিনি দাবি করেন, দলের মধ্যে সংস্কারপন্থি বলে আলাদা করে কাউকে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।