।। পসরা প্রতিবেদক ।।

চীনের শেনজেনে হুয়াওয়ের ১৬তম গ্লোবাল অ্যানালিস্ট সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামিটে এ বছরের উপজীব্য হলো ‘সম্পূর্ণ সংযুক্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্ব গড়া’। হুয়াওয়ের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরও ৬৮০টি শিল্প ও আর্থিক অ্যানালিস্ট, বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এই সামিটে অংশ নেন, যাদের মধ্যে টেলিকম, ইন্টারনেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যানালিস্টরা ছিলেন। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে কিভাবে একটি সম্পূর্ণ সংযুক্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্ব গড়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায় হুয়াওয়ে।

সামিটে ইন্ডাস্ট্রি ট্রেন্ড ও স্ট্র্যাটেজিক বিষয় তুলে ধরে হুয়াওয়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান কেন হু বলেন, ইতোমধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্ব তৈরি হয়েছে। আমরা এটা অনুভব করতে পারি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বর্তমানে অবিশ্বাস্য উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ধারণার অনেক আগেই বিভিন্ন জায়গায় ফাইভজি চালু হচ্ছে। এছাড়া ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইভজি নেটওয়ার্ক উন্নয়নের সাথে সাথে ফাইভজি ডিভাইসেরও উন্নয়ন হচ্ছে। হুয়াওয়ের ধারণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ২.৮ বিলিয়ন মানুষ ফাইভজি ব্যবহার করবে। ফলে ব্যবহারকারীদের এই বড় অংশকে সহায়তা করতে একটি খুবই সাধারণ, শক্তিশালী ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও গ্রাহক সেবায় নতুন নতুন মাত্রা যোগ করাই হুয়াওয়ের লক্ষ্য।

হু আরো বলেন, হুয়াওয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবন অব্যাহত রাখতে চায় এবং এটা এমন একটি কোম্পানি যারা শুধু বর্তমানের জন্য বিনিয়োগ করে না বরং অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ভবিষ্যতের জন্যও বিনিয়োগ করে। হুয়াওয়ে শুধু বাণিজ্যিক সফলতার জন্য কাজ করে না বরং তারা ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে নেতৃত্ব দেবে। সম্পূর্ণ সংযুক্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্বের উপকারিতা বেশি সংখ্যক মানুষ, বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়াই হুয়াওয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
সামিটে হুয়াওয়ের পরিচালনা পর্ষদের ডিরেক্টর এবং ইনস্টিটিউট অফ স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ-এর প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম জু বলেন, হুয়াওয়ে ইনোভেশন ২.০ যুগের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। ইনোভেশন ২.০ হলো লক্ষ্যভিত্তিক তাত্ত্বিক জ্ঞান ও নতুন নতুন উদ্ভাবন। ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ মূলত আগামী পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করবে।
জু বলেন, সাধারণ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী শিক্ষা গবেষণায় আমরা প্রতিবছর ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করি, যা আমাদের গবেষণা প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন নতুন তত্ত্ব ও মৌলিক প্রযুক্তির উদ্ভাবনে হুয়াওয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাথে কাজ করবে।
ইনভেস্টমেন্ট রিভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যান, হুয়াওয়ে বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ও আইসিটি স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি ডেভিড ওয়াং বলেছেন, বুদ্ধিমান জগতের মূল অবকাঠামো হবে কানেক্টিভিটি, কম্পিউটিং এবং ক্লাউড। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এই নতুন জগতকে শক্তিশালী করবে।
অধিবেশন থেকে জানা গেছে, উদ্ভাবনই হুয়াওয়ের মূল চালিকাশক্তি যার ফলে তারা ক্রমবর্ধমান উন্নতি ধরে রাখতে পেরেছে। এই উদ্ভাবন সবসময় গ্রাহকদের চাহিদা ভিত্তিক। গত তিন দশক ধরে হুয়াওয়ে তার গ্রাহকদের এবং অংশীদারদের সাথে সব ইন্ডাস্ট্রি ও সমাজের জন্য মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। এভাবেই হুয়াওয়ে আইসিটি অবকাঠামো সরবরাহকারী এবং স্মার্ট ডিভাইস নির্মাতাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে এসে গেছে। সময় এখন বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্ব নির্মাণের এবং এক্ষেত্রে আইসিটি শিল্প খাতের অভাবনীয় উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।