।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলার রায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিচারক অনুপ কুমার রায় লিলন হত্যা মমলায় ৩ জনের ফাঁসি ও আট আসামিকে বেকসুর খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

অধ্যাপক লুৎফর রহমান

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান উত্তরকালকে বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছে তার প্রতি সবার শ্রদ্ধা থাকা উচিত। বিজ্ঞ বিচারক যে রায় দেন তা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে যথাযথই রায় দেন। বিচারক যে রায় দিয়েছেন তা যথোপযুক্ত রায়ই দিয়েছেন।’

লিলনের সহকর্মী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জুলফিকার আলী ইসলাম উত্তরকালকে বলেন, ‘আদালতের প্রতি আমাদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। লিলন হত্যাকাণ্ডের রায় হয়েছে বলে গণমাধ্যমে শুনেছি। তবে এখনো রায়ের অনুলিপি হাতে পাইনি। রায়ের অনুলিপি হতে পেলে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবো।’

অধ্যাপক জুলফিকার আলী ইসলাম

তিনি বলেন, ‘ন্যায় বিচার পাবার জন্য আমরা দীর্ঘ দিন থেকে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয় নিয়ে বিভাগ এবং শিক্ষক সমিতি সমানভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। তবে একটা কথাই বলব, সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে হত্যাকারীকে বিচারের আওতায় আনা হোক।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান উত্তরকালকে বলেন, ‘লিলন স্যারের হত্যাকান্ডের ঘটনা অনেক আগের। এতদিন পরেও এই হত্যাকাণ্ডের একটা রায় হয়েছে, এটা আমাদের জন্য অবশ্যই ভালো খবর। আমরা রায় শুনে অনেক আনন্দিত এবং এই রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি করছি।’

বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আসিফা তাসনিম মিম উত্তরকালকে বলেন, ‘লিলন স্যারের ক্লাস করার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি। তবে শুনেছি তিনি অনেক ভাল একজন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষার্থীদের যে কোন সমস্যায় তিনি এগিয়ে আসতেন। এমন একজন ভাল মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যেটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।’ এসময় তিনি এ রায়ের দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন কুপিয়ে হত্যা করা হয়।