।। ওয়াসিফ রিয়াদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

নববর্ষের আগমনী বার্তা কড়া নাড়ছে দরজায়। রাত পোহালেই নতুন বর্ষের উদযাপনে মাতবে সবাই। বৈশাখকে বরণ করবার জন্য নানা আয়োজনে মেতেছে সবাই। বৈশাখকে আনন্দমুখর করে তুলতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদ দীর্ঘ দিনের এ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন অপেক্ষা শুধু বৈশাখের।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখ উদযাপন করতে নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে চারুকলার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। নতুন বর্ষকে স্বাগত জানাতে ছেলেরা পড়বে রঙিন পাঞ্জাবী-পায়জামা। আর মেয়েরা বের হবে রঙিন শাড়ি গায়ে। সকালে চড়ুইভাতি সেরে ডামি নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা তো থাকছেই। সঙ্গে থাকছে দিনভর লোকজ ও সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন।

চারুকলা প্রাঙ্গণে সরেজমিনে দেখা যায়, উদযাপনের মূল আকর্ষণ ইউনেস্কো স্বীকৃত মঙ্গল শোভযাত্রাকে মাথায় রেখে সম্পন্ন করেছে তাদের এই আয়োজন। শোভাযাত্রার জন্য রঙ বেরঙের ডামি বানানো হয়েছে। বৈশাখ উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনটিও নষ্ট করে নি। শিক্ষকদের নির্দেশনায় মনোযোগ দিয়ে একটি একটি করে সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে তারা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বৈশাখের সকল কাজের মূল দায়িত্বে থাকা মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক বলেন, এবার এই আয়োজনে যা কিছু আছে সবই লোক ও বাঙালির শেকড়কে অনুসরণ করে। প্রতিবছরের মতো আমরা ডামি তৈরি করছি। এগুলো হচ্ছে, একটি ঘোড়া ও একটি ময়ুর। ঘোড়ার ডামি ‘গতি’র বার্তা বহন করবে। এটি দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে থাকা বাংলাদেশে অর্থনীতির বর্তমান গতিকে উপস্থাপন করবে। আর ময়ুরের নাচ ও রঙিন পালক উৎসবের আমেজকে নির্দেশ করবে। এছাড়াও আমরা একটি হাতির ডামি তৈরি করেছি। যা বাংলাদেশের ধাবমান বৃহৎ অর্থনীতির প্রতীক হিসেবে বার্তা বহন করে। তবে প্রতিবছর শোভাযাত্রার জন্য রঙ বেরঙের মুখোশ তৈরি করা হলেও এবার রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার কথা মাথায় রেখে মুখোশ তৈরি করা হয়নি বলে জানান তিনি।

চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আফ্রিদী বলেন, বড়ভাই, আপু ও শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করেছি। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব আয়োজন শুধু টিভিতে দেখেছি, কিন্তু তৈরির কাজ কখনো করিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর শিক্ষার্থী হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছে বলে অনেক ভালো লাগছে।

শিল্প ও ভাষ্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী সঞ্জয় কুমার সূত্রধর বলেন, পহেলা বৈশাখ নিয়ে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি অনুভূতি কাজ করে। উৎসবে সবাই একসঙ্গে অংশগ্রহণ করবো, এতকিছু এজন্যই। তাই রোদ বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে আমরা আমাদের কাজ শেষ করেছি।

বৈশাখি রঙ ফুটে ওঠে কারও পোশাকে, কারও দেয়ালে, কারও দরজায়, কখনো রাস্তায় কিংবা পর্দায়। রঙের এই খেলা আরও উজ্জ্বল হয়, যখন কাজগুলো হয় লোকজ ধাঁচে। তাইতো শুধু চারুকলারই নয়, অন্য অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষার্থী, এমনকি বহিরাগত অনেকেই প্রস্তুতি দেখতে আসছেন। তাদের উৎসুক চোখে মুখে দেখা যাচ্ছে উৎসবের আগাম আমেজ। বাঙালি জাতির এই প্রাণের উৎসবকে সামনে রেখে তাই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাবি চারুকলা। নতুন বর্ষ সবার গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন সূচনা নিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।