।। ওয়াসিফ রিয়াদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

‘নাসা হিউম্যান রোভার এক্সপ্লোরেশন চ্যালেঞ্জ ২০১৯’ প্রতিযোগিতায় নিজেদের তৈরি হিউম্যান রোভার নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একদল গবেষক। বাংলাদেশে এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ হিউম্যান রোভার তৈরি করেছেন তারা। রোভারটির নাম দিয়েছেন ‘রান এ’। আগামী ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আমেরিকার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছেন আট সদস্যবিশিষ্ট ‘টিম এনেক্স রুয়েট’। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের প্রায় অর্ধশতাধিক দেশের ১২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অংশগ্রহণ করবেন ।

‘টিম এনেক্স রুয়েট’র উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন রুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ফাজলুর রশিদ। তিনি জানান, নাসা প্রতি বছর হিউম্যান রোভার নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। মহাশূন্যের যেসব জায়গায় সাধারণ যান চলাচল করতে পারে না, সেখানে খুব সহজে অভিকর্ষজ শক্তি ও অন্যান্য প্রতিকুল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে এমন যান নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিযোগীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। রোভার তৈরির ক্ষেত্রে নাসার নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে চলতে হয়।

তিনি বলেন, এবারের প্রতিযোগিতায় নাসার শর্ত ছিলো, ৭ মিনিটে দেড় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারবে এমন রোভার বানাতে হবে। এছাড়াও হালকা ও মসৃণ ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার, রোভারে চাকাগুলো মহাশূন্যে চলার উপযোগী হতে হবে এরকম শর্ত ছিলো। আমরা সেগুলো যথাযথভাবে মেনেই ‘রান এ’ তৈরি করেছি।

গবেষক দলটির নেতৃত্বে ছিলেন রুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাসের নাহিদী আদর। তিনি জানান, মহাশূন্যের যেকোনও গ্রহ বা উপগ্রহে এই রোভার চলতে পারবে। সব জায়গায় অভিকর্ষজ ত্বরণ ও প্রতিকুল পরিবেশের সঙ্গে সয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে চলবে এই রোভার।

আদর বলেন, নাসা তাদের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা গবেষকদের কাজের মান অনুযায়ী চাকরি অথবা ইন্টার্নশিপ অফার করবে। আমাদের কাজটা অগ্রাধিকার পাবে বলে আমরা আশা করছি। তিনি জানান, এই রোভার তৈরি করতে প্রায় পাঁচ মাস কাজ করতে হয়েছে তাদের। নাসার শর্তগুলো যাতে সঠিকভাবে পূরণ করা যায় সেজন্য তিন মাস পড়াশোনা ও গবেষণা করতে হয়েছে দলের প্রত্যেককে। বাকি দুই মাস ধরে প্রোডাকশনের কাজ করেছেন তারা।

নিজেদের তৈরি রোভারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদর বলেন, বাংলাদেশ পোশাক শিল্পে যেমন এগিয়ে, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এগিয়ে যাবে। এই রোভার বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে, নাসার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রতিযোগিতার একটা অংশ। আমাদের কাজের ওপর নাসা যেন নির্ভর করতে পারে। তারা যেন বলে, আমাদের দেশ ভালো কাজ করেছে।

হিউম্যান রোভারটি সম্পর্কে দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক ফাজলুর রশিদ বলেন, প্রথমে আমরা একটা প্রটোটাইপ তৈরি করে এর ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাই। যখন দেখলাম রেজাল্ট ইতিবাচক আসছে, তখন মূল রোভার তৈরির কাজে হাত দেই।

টিম এনেক্স রুয়েটে কাজ করেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাসের নাহিদী আদর, ইফতেখার আনাম, মশিউর রহমান আকাশ ও সাহেব উদ্দিন, মেকাট্রনিক্স বিভাগের খন্দকার নাহিক কবির, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স বিভাগের আফসানা বুসরা। দলের উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক ফাজলুর রশিদ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম রহমান নিবির।