।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কঙ্কাল বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে জানিয়েছেন প্রশাসন। 

এদিকে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের বুধবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আর ছাত্ররা গতকাল মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাত ৮টার মধ্যেই ছাত্রাবাস ছেড়ে গেছে। 

সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষ থেকেই রাজপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেখান থেকে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক এ ব্যাপারে মামলা ও ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার পর আইএইচটি কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বিকেলে একটি নোটিশের মাধ্যমে জানিয়েছে, আইএইচটিটির একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় ১১ জন শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরবর্তী অবস্থা আরও অবনতি এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সেই সঙ্গে ডিপ্লোমা কোর্স জানুয়ারি-২০১৯ এর অবশিষ্ট মৌখিক পরীক্ষাসমূহ এবং বিএসসিসহ ডিপ্লোমা কোর্সের সকল বর্ষের ক্লাসসমূহ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

আইএইচটি’র শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তৃতীয় বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের দুই নম্বর গ্যালারিতে কঙ্কাল বিক্রি জন্য প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। তারা শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের আইএইচটি শাখার সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামানের অনুসারী।

সেখানে সভাপতির অনুসারী প্রথম বর্ষের ছাত্র সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ওই তিন শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। তিন শিক্ষার্থী বেরিয়ে চলে আসেন। তারা সভাপতির কাছে মীমাংসার জন্য যান। সেখানেই দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের আহত কর্মীদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের পাঁচজন ও সভাপতির পক্ষের একজন। সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের পাঁচজন হচ্ছেন ছাত্রলীগকর্মী ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম, ডেন্টাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসমাউল হোসেন, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি সরকার, একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও আল আমীন ও ফিজিও থেরাপি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জ্যোতি সিদ্দিক।

এরমধ্যে নাফিউল ইসলাম ও আসমাউল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আসমাউলের মাথায় ২৪টি সেলাই দেয়া হয়েছে। এরা সবাই ছাত্রলীগের আইএইচটি শাখার সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক। সভাপতির পক্ষের আহত হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের আইএইচটি শাখার সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান বাদী হয়ে নগরের রাজপাড়া থানায় সভাপতিসহ আটজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া আহত শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলামের মা শরীফা বানু বাদী হয়ে একই ঘটনায় অপর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পরে শুনেছেন। সভাপতির সমর্থকেরা তার উপস্থিতিতেই শামীম ছাত্রাবাসে ঢুকে তার (সাধারণ সম্পাদকের) নিজের এবং সমর্থকদের তিনটি কক্ষ ও মসজিদের জানালার কাচ ভাঙচুর করে।

সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, সভাপতির অনুসারীরা তার কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা ও ৩১০ নম্বর কক্ষ থেকে ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে যান। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

আইএইচটি শাখার সভাপতি আসলাম সরকার বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের কর্মীসমর্থকেরাই আহত হয়েছেন। তবে যাদের কক্ষ ভাঙচুর করার অভিযোগ করা হচ্ছে, তারা নিজেরাই তাদের কক্ষ ভাঙচুর করে সাংবাদিকদের খবর দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ফলে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর একইভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেসময় ছাত্রলীগের ওই কমিটি বাতিল করা হয়েছিল এবং ছাত্রলীগের চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।