।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আপাতত সিঙ্গাপুরে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। নুসরাতের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। ৫ ঘণ্টা বিমান ভ্রমণ করে নুসরাতের মতো রোগীকে সেখানে নিয়ে যাওয়া ঝুঁকির। অবস্থা স্থিতিশীল হলে তখন নেয়া যেতে পারে বলে মত দিয়েছে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাতের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটের চিকিৎসকরা।

এরপর সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সাংবাদিকদের একথা বলেন নুসরাতের চিকিৎসার বিষয়ে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা নুসরাতের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সমস্ত ডকুমেন্ট আদান-প্রদান করেছি। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা তা দেখে আপাতত নুসরাতকে সেই দেশে নেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন। এ কারণে এই মুহূর্তে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহ -এমন অভিযোগ এনে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বোরকা পরিহিত ৪/৫ ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রী লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।