।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

চৈত্রের সকাল মানেই রোদের প্রখরতা। তবে রাজশাহীর প্রকৃতিতে আজ (সোমবার) ভিন্নরূপ। আলো-আঁধারির মধ্যে প্রকৃতি যেন আপন খেলায় মেতেছে। রাজশাহীতে আজ সকাল থেকেই আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি নেমেছে। এ যেন বর্ষার সকাল। বৃষ্টির সঙ্গে ঘনঘন বজ্রপাত।

রাজশাহীবাসী আজ সকালে ঘুম ভেঙে রোদের মুখ দেখেনি। ভোর থেকে মেঘ করে থাকলেও সকাল সাড়ে আটটা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। অবশ্য রাজশাহীর প্রকৃতিতে বেশ কদিন থেকেই এমন আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনের যেকোনো সময় হঠাৎ মেঘ করে বজ্রপাতের সঙ্গে বৃষ্টি নামছে। সঙ্গে রয়েছে ঝরো হাওয়া।

এদিকে রাজশাহী ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে গেল কয়েক বছর থেকেই বৈশাখ থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ মাঠে কাজ করতে গিয়ে অথবা পুকুরে, নয়তো চলাচল করতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর এবার খরা মৌসুম তথা চৈত্র কালেই শুরু হয়েছে বজ্রপাত। মেঘের কারণে একটু আকাশ অন্ধকার হয়ে আসলেই বজ্রপাতের শব্দ কানে বাজছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতিতে কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে। শীত দেরিতে আসছে। আবার বৈশাখের আগেই এবার ঝড়োমৌসুম। সার্বিক অর্থে জলবায়ুর পরিবর্তনটা প্রকাশ্য। আর বজ্রপাত বাংলাদেশের জন্য নতুন বিপদসংকেত।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যমতে, সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমগক ৪ মিলিলিটার।

এদিকে সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কর্মঠ মানুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিজ গন্তব্যে যেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। রাজশাহী কামারুজ্জামান চত্বরে ডালি-কোদাল নিয়ে কাজের সন্ধানে বসে থাকা দিনমজুর মানুষগুলোর কপালের ভাঁজটা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। কারণ বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে তারা ভাবছে আজ বুঝি কাজ মিললো না। এদিকে শহরে অটো ও রিকশার সংখ্যাও কম লক্ষ করা গেছে। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছে দিতে রিকশাগুলো এরই মধ্যে ভাড়া বেশি চাইতে শুরু করেছে।

আলোকচিত্র : মাহফুজুর রহমান রুবেল