।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে ফের ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাইফয়েড ও জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় রোগ অনেক বেড়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী বিপ্লবের।

ভুক্তভোগী বিপ্লব জানান, অনেকদিন থেকে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত ডা. মো. আবদুল ওয়াদুদ কিছু ওষুধ দেন। সপ্তাখানিক সে ওষুধ সেবন করেও কোনো ফল না পেয়ে মাকে নিয়ে আবার আসেন চিকিৎসা কেন্দ্রে। এবার ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম আহমেদ চৌধুরী কিছু টেস্ট করাতে দেন। রিপোর্ট দেখে তিনি কিছু এন্টিবায়েটিক দিয়ে বলেন ‘তোমার কোনও সমস্যা নেই, এগুলো খেলে ঠিক হয়ে যাবে’। কিন্তু বাইরে টেস্ট করিয়ে বিপ্লব জানতে পারলেন তার টাইফয়েড ও জন্ডিসের মাত্রা অনেক বেশি, আর ভুল চিকিৎসায় অসুখ আরও বেশি হয়ে গেছে।

গত ৩০ মার্চ রাবি চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে শেষবারের মতো ওষুধ নেন বিপ্লব। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল টেস্ট করার পরে রিপোর্ট নেয়ার জন্য আমাকে তিন দিন ঘুরতে হয়েছে। মোট ছয়বার গিয়েও ভুল চিকিৎসার শিকার আমি। পরে বাইরে থেকে চিকিৎসা নিয়ে এখন কিছুটা সুস্থ আছি।’

শুধু বিপ্লবই নন, তার মতো অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ভুল চিকিৎসার পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী অনেকেই জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে ডাক্তাররা রোগের কথা ভালো করে না শুনেই ওষুধ লিখে দেন। রোগ যেটাই হোক কিছু এন্টিবায়েটিক দিয়ে দায় সারেন তারা।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে চোখের চিকিৎসা নিয়ে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ কুমার। তিনি বলেন, আমার চোখে এলার্জির সমস্যায় বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তার তিনটা ড্রপ দেন। সেগুলো ব্যবহারের পর সমস্যা আরও বাড়তে থাকে। পরে শহরের মেডিকেলের ডাক্তারের কাছে গেলে তারা বলেন, সেই ড্রপগুলো আর কিছুদিন ব্যবহার করলে আমার চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা ছিলো।

প্রসেনজিৎ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। শিক্ষার্থীদের কোনোমতে এন্টিবায়েটিক দিয়ে বিদায় করেন সেখানের ডাক্তাররা। তার অভিযোগ, সন্ধ্যার পরে ইমারজেন্সি চিকিৎসার নামে সেখানে এন্টিবায়েটিক আর ঘুমের ইনজেকশন দেয়া হয়। যেগুলোর পরবর্তিতে অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

চিকিৎসা কেন্দ্রের ভুল চিকিৎসায় ক্ষুদ্ধ ভুক্তভোগীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, চিকিৎসা কেন্দ্রে ওষুধ না থাকলে তারা চিকিৎসা করা থেকে বিরত থাকবেন, সেটাই ভালো। কিন্তু ভুল চিকিৎসা দিয়ে আমাদের জীবন হুমকির মুখে ফেলার কোনও অধিকার তাদের নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে সব ধরনের ওষুধ থাকে না। তবে ভুল চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টা অবশ্যই খারাপ। ছাত্রদের অনেকেই শুধু মুখে মুখে চিকিৎসা কেন্দ্র নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আমাদের কাছে কখনও লিখিত অভিযোগ দেন না কেউ। তারা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।