।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

২৬তম লিগ শিরোপাটি তাহলে জিতেই গেল বার্সেলোনা! কাগজে-কলমের হিসেবে এখনো শতভাগ নিশ্চিত হয়তো নয়। তবে গতকাল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারানোর মধ্যদিয়ে বার্সেলোনা কার্যত লিগ শিরেপাটি নিজেদের পকেটেই পুরে ফেলল।

ন্যু-ক্যাম্পের রোমাঞ্চকর এই জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাতলেতিকোর চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। লিগ বাকি আর মাত্র ৭টি করে ম্যাচ। সেই ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্টের ব্যবধান গুছিয়ে শিরোপা জিততে, সেই স্বপ্ন এখন হয়তো অ্যাতলেতিকোর পাঁড়ভক্ত দেখছেন না!

আগে থেকেই ৮ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। ফলে ফুটবলবোদ্ধারা গতকাল দুই দলের এই ম্যাচটিকে শিরোপার-যুদ্ধ হিসেবেই দেখছিল। অ্যাতলেতিকো জিতলে লড়াইয়ে ফিরতে পারত ভালোভাবে। কিন্তু তীব্র ক্ষুধার্ত বার্সেলোনা অ্যাতলেতিকোর সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ করেছে নিজেদের স্বপ্ন।

বার্সেলোনার শিরোপার সুবাস ছড়ানো এই জয়ের নায়ক নায়ক দলের দুই তারকা লুইস সুয়ারেজ ও লিওনেল মেসি। এই দুজনের শেষ মুহূর্তের গোলেই ১০ জনের দল অ্যাতলেতিকোকে হারাতে পেরেছে বার্সেলোনা।

বার্সেলোনার দূর্গ ন্যু-ক্যাম্পে অ্যাতলেতিকোর রেকর্ড তেমন ভালো নয়। তারপরও কালকের ম্যাচ নিয়ে খুব আশাবাদী ছিলেন অ্যাতলেতিকোর আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো সিমিওনে। শিরোপা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই ন্যু-ক্যাম্পে গিয়েছিল তারা। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেই আকাঙ্খার অনুবাদও করে দেখিয়েছে অ্যাতলেতিকো।

কিন্তু ম্যাচের ২৯ মিনিটেই ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে যায় যারা, তাদের পক্ষে কি বাকি ৬১ মিনিট মহাপ্রতাপশালী বার্সেলোনাকে দমিয়ে রাখা সম্ভব? চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা নিয়ে অ্যাতলেতিকোর খেলোয়াড়রা কঠিন কাজটা প্রায় করেও ফেলছিল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য রেখেছিল বার্সেলোনাকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হতে দেননি সুয়ারেজ-মেসি।

৮৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে বার্সেলোনার জয়ের রাস্তাটা খুলে ফেলেন সুয়ারেজ। এই উরুগুইয়ান তারকার গোল উৎসবের রেশ না কাটতেই আবারও ন্যু-ক্যাম্প আনন্দে নেচে ওঠে। এবারের উপলক্ষটি তৈরি করেন অধিনায়ক মেসি। সোনালি বুটের আলতো ছোঁয়ায় মেসি নিশ্চিত করে ফেলেন জয়। লিগ শিরোপাও।

দুটি গোলই শেষ মুহূর্তে। তবে সফরকারী অ্যাতলেতিকো শিরোপা-যুদ্ধের ম্যাচটাতে আসলে হেরে যায় ২৯ মিনিটে। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সরাসরি লালকার্ড পান অ্যাতলেতিকোর স্প্যানিশ-ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দিয়েগো কস্তা।

আক্রমণ শানাতে গেলে বারবার বার্সেলোনার ডিফেন্ডাররা কড়াভাবে বাধা দিচ্ছিল তাকে। কিন্তু রেফারি একবারও ফাউলের বাঁশি বাজাননি। মেজাজে কস্তা তাই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন! বারবারই প্রতিবাদ জানান রেফারি গিল মানজানোর কাছে। ২৯ মিনিটে এই প্রতিবাদ করতে গিয়েই রেফারিকে অকথ্য এক গালি দিয়ে বসেন কস্তা। গালি দেন মা তুলে। বলে বসেন, যাও তুমি তোমার মায়ের সঙ্গেৃ কর। এমন অসভ্য গালি হজম করতে না পেরে রেফারি গিল মানজানো সরাসরি লালকার্ড দেখিয়েছেন তাকে।

মেজাজ খারাপ করে কস্তা নিজেই শুধু মাঠ ছেড়ে যাননি, ডুবিয়ে যান দলকেও। ১০ জন নিয়ে ম্যাচের বাকি সময়টুকু প্রাণপণ লড়লেও শেষ রক্ষা হয়নি। বরং স্বাক্ষী হতে হয়েছে বার্সেলোনার শিরোপা উৎসবের। হ্যাঁ, মূল শিরোপা উৎসবটা বলতে গেলে কালই সেরে ফেলেছে বার্সেলোনা।