।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সম্প্রতি মিসরের এক সমাধিক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষের ভেতরে একটি কবরের মধ্যে পাওয়া গেছে অন্তত ৫০টি মমি করা ইঁদুর, ডজন খানেক বিড়াল এবং বাজপাখি। সেখানে দুটি মানুষের মমিও পাওয়া গেছে। খবর হুররিয়াত ডেইলি নিউজের। এছাড়াও সমাধিস্তম্ভের মধ্যে শেষকৃত্যের বিস্তারিত অংকন করা চিত্রকর্মও পাওয়া যায়। কায়রোর দক্ষিণে মিনিয়া শহরের কাছে সোহাগ শহরে একটি প্রত্নস্থানে এই সমাধিক্ষেত্রটি আবিস্কৃত হয়।

সাধারণত এ পর্যন্ত বেশির ভাগ মমিই কয়েক হাজার বছর আগের অভিজাত পরিবারের মানুষের ও তাদের সহচরদের মমি পাওয়া গেছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে তাদের ব্যবহার্য তৈজসপত্র, অস্ত্র ও অলঙ্কার। কিন্তু এবার মিসরে নতুন আবিষ্কৃত এই সুসজ্জিত প্রাচীন ‘নেক্রোপলিস’এ পাওয়া গেল এসব প্রাণির মমি।

গত বছরের অক্টোবর মাসে চোরাকারবারিরা অবৈধভাবে এই সমাধিক্ষেত্র খুঁজে পায়। তারা সেটি খননকালে মিসরের কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

সম্প্রতি সমাধিক্ষেত্রটির খননকার্য শেষ হলে সেখানে দুইটি মানুষের মমিসহ ইঁদুর, বিড়াল ও পাখির মমি পাওয়া যায়। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই নতুন আবিস্কৃত সমাধিটি দুই হাজার বছরের বেশি পুরনো। তারা ধারণা করছেন, মমি দুটি তৎকালীন রাজপরিবারের সিনিয়র কর্মকর্তা টুটু ও তার স্ত্রীর।

এ বিষয়ে দেশটির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তফা ওয়াজিরি জানিয়েছেন, নতুন আবিস্কৃত সমাধিক্ষেত্রটি খুব সুন্দর ও রঙ্গিন। ২০১১ সালে দেশটিতে ঘটে যাওয়া আরব বসন্তের পর কায়রোর নিকটবর্তী এই সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার মিসরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঘটনা।

মিসরের অ্যান্টিকস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, রাজধানী কায়রোর কাছে মরুভূমিতে আবিষ্কৃত এই সমাধি নতুন করে পর্যটক আকর্ষণ করবে বলে আশাবাদী।