।। রাজু আহমেদ, রাজশাহী ।।

উঠোনজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মাটির হাঁড়ি, ঘোড়া-হাতি। নাম দেয়া হয়েছে ‘শখের হাঁড়ি’। এই হাঁড়িগুলোর মধ্যে যেগুলো সবেমাত্র তৈরি হয়েছে সেগুলো দেয়া হয়েছে রোদে শুকাতে। যেগুলো শুকিয়ে গেছে, সেগুলোতে চলছে রঙ-তুলির আঁচড়। চিত্রটি রাজশাহীর পবা উপজেলার বসন্তপুর এলাকার মৃৎশিল্পী সুশান্ত কুমার পালের বাড়ির উঠোনের।

সুশান্ত কুমার পালের পরিচিতি শুধু দেশেই নয়, রয়েছে দেশের বাইরেও। পেয়েছেন দেশ বিদেশের নানা স্বীকৃতি। সুশান্ত কুমার জানিয়েছেন এই পেশাটি তার পারিবারিক ঐতিহ্য; এর সঙ্গে জড়িত পরিবারের সকলেই। নিজের নৈপুন্যের কারণে তার এই হাতের তৈরি ‘শখের হাঁড়ি’ নিয়ে প্রদর্শন করে এসেছেন সদূর চীনে। ঘুরে বেরিয়েছেন দেশের নানা প্রান্তে।

সুশান্ত জানান, বাঙালির ইতিহাসে মাটির তৈরি জিনিস-পত্রের ব্যবহার বহু পুরাতন। এক সময় আমাদের নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রি যেমন, থালা, হাঁড়ি, চুলা, কলস, বদনা, কাপ টালি-সহ প্রায় প্রতিটি তৈজসপত্রই ছিল মাটির তৈরি।

তিনি আরো জানান, এক সময় হাজারো পাল বা কুমার পরিবার এ পেশায় জড়িত থাকলেও, বর্তমানে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই রাজশাহীতে টিকে রয়েছেন হাতেগোনা কয়েকটি কুমার বা পাল পরিবার। পারিবারিক এই ঐতিহ্য রক্ষা করতে এখন বেগ পেতে হচ্ছে। বর্তমানে এলুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক-পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মাটির তৈরি পণ্যের দিকে এখন কেউ তাকায় না। ফলে এখন কোনো কদর নেই এই মৃৎশিল্পীদের।

বৈশাখ উপলক্ষে সুশান্ত কুমার তার হাতে তৈরি মাটির সরঞ্জাম নিয়ে এবারো ঢাকায় যাচ্ছেন একটি মেলায় অংশ নিতে। মেলায় তার হাতের তৈরি অন্তত ১০ প্রকারের মাটির জিনিসপত্র থাকবে।

এদিকে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে, যারা এখনও এই মাটির তৈরি জিনিস ব্যবহার করছেন উল্লেখ করে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের রাজশাহীর এক কর্মকর্তা জানান, ক্ষুদ্র শিল্পকে সহায়তায় রয়েছে সরকারিভাবে ঋণের ব্যবস্থা। যারা এই শিল্পে আগ্রহী তারা চাইলেই এই প্রতিষ্ঠান থেকে অল্প সুদে ঋণ নিয়ে শুরু করতে পারেন ব্যবসা। আমাদের রুচির পরিবর্তন হলেও, বাঙালির অতীত ঐতিহ্যকে রক্ষা করা দায়িত্ব আমাদেরই। এই দায়িত্ব থেকে সরে আসার কোনো অবকাশ আমাদের নেই।

আলোকচিত্র : মাহফুজুর রহমান রুবেল