।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে নমনীয়তার আভাস দিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর প্যারোল নিয়ে জোর আলোচনার মধ্যে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিতীয় বারের মতো এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

শনিবার দুপুরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি পেতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করতে হবে। সেই আবেদনটি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। এ ধরনের আবেদন আমাদের কাছে আসলে খালেদার জিয়ার মুক্তির বিষয়ে চিন্তা করবে সরকার।”

এর কদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল একই ধরনের প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়টি আদালতের বিষয়।

তার সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, প্যারোলের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার নয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামির দীর্ঘমেয়াদি প্যারোলের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে। তবে আত্মীয়-স্বজনদের কেউ মারা গেলে কয়েক ঘণ্টার যে প্যারোল দেওয়া হয় তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দিতে পারেন।

খন্দকার মাহবুবের এই মন্তব্যের কয়েকদিনের মাথায় শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে নতুন করে কথা বললেন।

তবে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে পরিবারের সদস্য কিংবা সরকার পক্ষ থেকে কেউ কোনো প্রস্তাব দেয়নি বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির বিদায়ী সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির একটি অংশ ও খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের কারো কারো সমঝোতা হতে চলেছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদে যোগও দিতে পারেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কালিফোর্নিয়া সফররত বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তার দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তির জন্য সরকারের সাথে কোন ধরণের সমঝোতা হচ্ছে না। 

ভয়েস অব অ্যামেরিকার বাংলা সংস্করণে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই নেতা বলেন, “যেহেতু খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, সে কারণে এসব সমঝোতার প্রশ্নই আসে না।”

বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমে। তবে তিনি বলেন, “আমরা তার জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাবো। আশা করি, তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন।”

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, “বিএনপির কোনো নেতা কারাবন্দি চেয়ারপারসনের প্যারোলে মুক্তি চাইলে সেটি তার ব্যক্তিগত মত হতে পারে। বিএনপি এভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না। কারাবন্দি চেয়ারপারসনও এভাবে মুক্তি চান না।”

কারান্তরীণ সময়ে খালেদার সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়া এই নেতা বলেন, “আমার সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে আদালতে যখন সাক্ষাৎ হয়েছে তখন তিনি এ বিষয়ে কিছু বলেননি। চেয়ারপারসন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য বলেছেন। বিএনপি আদালতের মাধ্যমে আইনগতভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। রাজনীতির অঙ্গনে চেয়ারপারসনকে নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে তা সঠিক নয়, গুঞ্জন স্রেফ গুঞ্জনই। দলের স্থায়ী কমিটির যত সভা হয়েছে তাতে কেউ এ নিয়ে কথা বলেননি।”