।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

ধান ও গমের শস্যে থাকা ক্ষতিকর ক্যাডমিয়াম কমানোর প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করে সাফল্য পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুই গবেষণা দল। এজন্য তারা ধান ও গমে ক্ষতিকর ক্যাডমিয়াম দূরীকরণের জন্য পৃথক দুটি গবেষণা করেছেন।

এর একটি ‘সোনার বাংলা’ জাতের ধানের মাধ্যমে ক্যাডমিয়াম দূরীকরণ এবং পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত প্লাজমা কৌশল প্রয়োগ করে গমে ক্যাডমিয়াম কমানো।

দুইটি গবেষণায় দলের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমদ হুমায়ন কবির। তিনি বলেন, দেশে শিল্পকারখানার পরিমাণ বাড়ার ফলে চাষযোগ্য জমিতে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। মাটিতে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ধান, গমসহ বিভিন্ন শস্যেও সেটার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এসব শস্য খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে।

হুমায়ন কবির বলেন, তাই ক্যাডমিয়ার সহ্য করতে পারে এমন একটি ধানের জাত খুঁজছিলাম। আমরা ৩০ জাতের ধানের ওপর গবেষণা করে দেখেছি ‘সোনার বাংলা’ জাতের ধান ক্যাডমিয়াম সহ্য করার সক্ষমতা সর্বাধিক। এই জাতের ধান ক্যাডমিয়াম শোষণ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সোনার বাংলা জাতের ধানের জিন বিভিন্ন জনপ্রিয় ও উচ্চফলনশীল ধানের ব্রিডিং বা জিন স্থানান্তর সম্ভব। এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত ধানের জাত মাটিতে ক্যাডমিয়াম দূষণ থাকা সত্ত্বেও শস্যে ক্যাডমিয়ামের বিষক্রিয়া হ্রাস করবে।

গবেষক দলের পিএইচডি গবেষক আজিজুল বারী সোনার বাংলা নামক একটি ধানের জাতে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাডমিয়াম সহিষ্ণুতার সঙ্গে সম্পর্কিত FRO1, NRAMP1, IRT1 I PCS1 জিনের নিয়ন্ত্রণ লক্ষ করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি গমে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে একটি গবেষণা দলেরও প্রধান ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের আরেকটি গবেষণা ছিলো গমের ওপর। পদার্থ বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে গমের বীজে প্লাজমা প্রয়োগ করে কিভাবে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনা যায় তা বের করতে সক্ষম হয়েছি।

প্লাজমা পদ্ধতিতে ক্যাডমিয়াম হ্রাস করার বিষয়টি বিশ্বে প্রথম দাবি করে তিনি বলেন, এর আগে প্লাজমা পদ্ধতি ব্যবহার করে শস্যের গ্রোথ বাড়ানোর একটি গবেষণা হয়েছে। কিন্তু এই পদ্ধতিই প্রথম বিশ্বে।

তিনি বলেন, যেসব অঞ্চলের মাটিতে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ বেশি, সেখানে সোনার বাংলা জাতের ধান ও গমের বীজে প্লাজমা প্রয়োগ করে চাষ করলে শস্যে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ কমে যাবে। এতে মানুষের ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ কমে যাবে।

দুইটি গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের পাশাপাশি তিনজন থিসিস শিক্ষার্থীও ছিলেন বলে জানান এই শিক্ষক।