।। সাইফুল ইসলাম ।।


সাইফুল ইসলাম দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতা করেছেন। ছড়া ও উপন্যাস লিখেছেন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ গণহত্যা অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছেন।


দীর্ঘ ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের পর্যায়ে অর্থাৎ ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি পৌছে যায় স্বাধীনতার দোরগোরায়। কিন্তু স্বাধীনতার সুফল যেন জনগণ ঘরে তুলতে না পারে সে এক জন্য টিকিয়ে রাখা হয় সামরিক শাসন, স্বৈরশাসন, গণতন্ত্রহীনতা; চালু রাখা হয় পাকিস্তানি ধারার ভ-ামি-ষড়যন্ত্র-দয়াদাক্ষিণের রাজনীতি, নীতিহীন ক্ষমতা দখলের রাজনীতি।

রাজনীতি হয়ে ওঠে পণ্য, অর্থই হয়ে ওঠে রাজনীতির প্রধান নিয়ামক। এ রাজনীতি ভুলিয়ে দিতে থাকে যে, এদেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল যে যুদ্ধের নাম মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের রূপ জনযুদ্ধ। সেই বিশাল মুক্তিযুদ্ধকে আটকে ফেলা হয় মাত্র তিন লাইনে। যাদের বলার সামর্থ আছে তারা তাদের ইচ্ছে মতো শোনান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। অথচ গুটি কয়েক পাকিস্তানপন্থী স্বাধীনতা বিরোধী ছাড়া সাধারণ জনগণ সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।

এ পরিস্থিতিতে সিরাজগঞ্জের কতিপয় নবীন-প্রবীন সিদ্ধান্ত নেয় মুক্তিযুদ্ধকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনতে জনগণের দ্বারস্থ হওয়ার।
গত ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় সিরাজগঞ্জের গণহত্যা অনুসন্ধান কমিটি। এ কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, তারা সাধারণ জনগণের দোর গোরায় যাবে, অনুসন্ধান করবে বিপুল সংখ্যক আত্মদানকারী শহীদ ও তার পরিবারবর্গকে, সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করে তা প্রকাশ ও প্রচার করবে।

তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, যুদ্ধ পরবর্তী রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে একাত্তুরে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধকে অনুসন্ধান করবে। তারা নিজেরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কোনও মতকে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেবে না, বরং মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনবে সাধারণ মানুষের কাছে থেকে।

তারা মনে করে ১৯৭১ সালের ৭ কোটি মানুষের মধ্যে এখনো জীবিত আছে প্রায় তিন কোটি মানুষ, যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী। তারা বিশ্বাস করতে থাকে যে, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি-সমৃদ্ধ সেই জনগণই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আঁকড়, তারা পা-িত্য-বনিক নয়, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বানিজ্যের ফন্দি-ফিকিরও তাদের জানা নেই, তাই তারাই রচনা করবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

এমনকি, অনুসন্ধান কমিটি মনে করে, জনগণই বাংলাদেশকেও এগিয়ে যাওয়ার পথও দেখাবে। অনুসন্ধান কমিটি অগণতান্ত্রিক শাসনের ব্যবস্থাপত্র, অর্থাৎ ধনাঢ্য ব্যাক্তি, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ডোনার এজেন্সির বাইরে জনগণের সামর্থকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ নেয়।
শুরুতে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার পর পরই অনুসন্ধান কমিটির সংগঠকেরা ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে গণহত্যার স্থানগুলিতে মোমবাতী জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গণে ঝড় ওঠে যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিপুল পরিমান টাকার প্রয়োজন পড়বে- মোমবাতী কেনা, লোক আনা- এতো টাকার জোগান দেবে কে? অনুসন্ধান কমিটির সংগঠকেরা এ সব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে গণহত্যা স্থানের আশপাশ এলাকার জনগণের সঙ্গে কথা বলা শুরু করে।

প্রথমেই শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক-হানাদার ও তার দোসরদের হাতে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোকে সংগঠিত করার কাজ। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে এরাই সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ, অথচ সবচেয়ে বেশী অবহেলিত। তাই শুরুতেই অনুসন্ধান কমিটির সামর্থ অনূযায়ী গণহত্যা স্থানের আশপাশের গ্রামগুলিতে শুরু হয় উঠোন বৈঠক।

সংগঠকেরা জানার চেষ্টা করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাদের এলাকায় কী ঘটেছিল। প্রথম দিকে দ্বিধান্বিত থাকলেও কয়েকদিনের মধ্যে সে দ্বিধা কাটিয়ে সরল মানুষেরা বলতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী। জনান্তিক জানায় এ দ্বিধার কারণ, স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো ক্ষমতাবান সমাজে এবং রাষ্ট্রে।

সাবধানী জনগণ এ ব্যপারে সচেতন। মোমবাতী জ্বালানোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে গণহত্যার স্থানের এলাকাবাসী নিজ খরচে এলাকার শহীদদের নাম সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন পর শহীদ তথা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা। সাম্প্রদায়িক শক্তি পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত অন্য ধর্মাবলম্বীদের নামের পাশে ‘শহীদ’ নাকি ‘স্বর্গীয়’ লেখা হবে তা নিয়ে বিতর্ক তোলার চেষ্টা করে। এর জবাব দেয় স্থানীয়রাই। তারা উত্তর দিতে থাকে যে, একাত্তরে পাক-বাহিনী বাঙালিদের ওপর হামলে পড়েছিল। তাই পাক-বাহিনী ও তার দোসরদের হাতে যারা নিহত হয়েছেন তারাই শহীদ। এভাবেই জনগণের প্রতিরোধে পিছিয়ে যায় সম্প্রদায়িক শক্তি।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ঘোষিত সন্ধ্যার মোমবাতী জ্বালানোর কর্মসূচিতে অবতারণা ঘটে অভূতপূর্ব দৃশ্যের। নির্দিষ্ট স্থানে কেউ একটি কেউবা দশটি মোমবাতী নিজ খরচে কিনে এনে হাজির হয়। অনুসন্ধান কমিটির যোগাযোগ করা স্থানগুলিতে কোথাও শত কোথাও পাঁচ শতাধিক মোমবাতী জ্বলে ওঠে বিশেষ কারো অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়াই। ব্যাপক সাড়া পড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায়।

এরপর কিছু প্রচারমূলক, যেমন- মানববন্ধন, গণহত্যার আলোকচিত্র প্রদর্শণী, আলোচনা সভা, এসব কর্মসূচির পালনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে অনুসন্ধান কমিটি। ‘১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনী ও তার দোসরদের হাতে নিহতদের শহীদের মর্যাদা দাও’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৯১৮-র ১৩ অক্টোবর শহীদ পরিবার সমাবেশ করার কর্মসূচি হাতে নেয় অনুসন্ধান কমিটি। এজন্য সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে বড় শহীদ মনসুর আলী অডিটোরিয়াম ভাড়া করা হয়। এসব অনুষ্ঠান বা সমাবেশের যারা আয়োজন করেন, এ উদ্যোগ দেখে তাদের চোখ তো ছানাবড়া।

এত বড় হল ভরবে কিভাবে, লোক আনা হবে কোথা থেকে, লোক আনার খরচই বা জোগাবে কারা, এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে তাদের মধ্যে। একজন রাজনৈতিক নেতাতো প্রশ্নই করে বসেন যে, শহীদ পরিবারগুলোকে যে নিয়ে আসা হবে তাদের দেওয়া হবে কী? মানে কিছু না দিলে তো কোনও লোক এখন আর আসে না। অনুসন্ধান কমিটির সংগঠকেরা এসব প্রশ্নের জবাবে জানায় যে. শহীদ পরিবার তাদের মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করছে।

যারা এ আন্দোলন করছে তারা এবং দাবির প্রতি যাদের সমর্থণ আছে তারা নিজ দায়িত্বেই আসবে। এখানে কোনও ভাড়াটে লোক আনা হবে না। প্রশ্নকারীরা কেউ কেউ মুচকি হেসেছেন যে, এখনো ‘বোকার স্বর্গে’ বাস করছে অনুসন্ধান কমিটির সংগঠকেরা। কিন্তু শহীদ পরিবার সমাবেশের দিন দেখা গেল, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও শহীদ পরিবারের স্বজনদের দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ শহীদ এম. মনসুর আলী অডিটোরিয়াম। সে সমাবেশে ছিল না কোনও প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, উদ্বোধক, জনপ্রিয় নেতা বা সৌজন্য বক্তা। সেখানে বক্তৃতা করেন শুধু মাত্র শহীদ পরিবারের স্বজনেরা। এ সমাবেশের সফলতার মধ্যে দিয়ে প্রমান হয়ে গেল যে, প্রাণের দাবি তুললে জনগণ তাতে সাড়া দেয় নিজ দায়িত্বেই। এ সফলতা অনুসন্ধান কমিটির সংগঠকদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেয়।

২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নিতে পারেনি, ছোট্ট একটি আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে দায়িত্ব পালন করে অনুসন্ধান কমিটি। তবে একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা আহরণ করতে পেরেছে জনগণের কাছে থেকে। তারা জানতে পারে যে, সিরাজগঞ্জ শহরের পাশ্ববর্তী শিয়ালকোল ইউনিয়নের এক গ্রামের কতিপয় শিক্ষার্থী ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন গত তিন/চার বছর ধরে। অনুসন্ধান কমিটির সংগঠকেরা এ কর্মসূচিতে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে। কর্মসূচিটি তাদের পছন্দ হয় এবং অন্যান্য এলাকায় তা ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অনুসন্ধান কমিটি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং প্রথম বারে তিরিশটি স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

অনুসন্ধান কমিটি তিরিশ স্কুলকলেজ বাছাই করে সেখানে যাতায়াত শুরু করে। প্রথমেই তারা শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরিকল্পনার কথা জানায়। সংগঠকেরা জানায় যে, পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে উৎসাহিত করতেই তাদের এ পরিকল্পনা। একেকটি স্কুল বা কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের গ্রাম বা মহল্লায় বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও যুদ্ধাহত পরিবারকে মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরিবারের অবদানের জন্য বাড়ি গিয়ে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও যুদ্ধাহতদের সম্পর্কে জানতে পারবে, জানতে আগ্রহী হয়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে। পাশাপাশি, ছেলেমেয়েরা যখন দল বেঁধে ফুল নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটবে অথবা সাইকেল নিয়ে বাড়ি বাড়ি দৌড়াবে তখন লোকালয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা বাড়বে। শিক্ষকেরা অনুসন্ধান কমিটির এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সাড়া দেন। তারা বলেন যে, এটা মুক্তিযুদ্ধকে জানার ‘প্রাক্টিক্যাল কøাস’ হয়ে উঠবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত হয় তত্বাবধায়ক কমিটি। তারা অনুসন্ধান কমিটির এ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে, আলোচনার সুযোগ করে দেন অনুসন্ধান কমিটির সংগঠকদের। স্কুলকলেজগুলোতে গড়ে উঠতে থাকে অনুসন্ধান কমিটির শাখা।

শিক্ষকদের তত্বাবধানে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালনে তৎপর হয় শিক্ষার্থীরা। এবার অনুসন্ধান কমিটির আরো অভিজ্ঞ হওয়ার পালা। অনুসন্ধান কমিটিকে একটি স্কুল জানিয়েছিল যে, তারা তাদের পিকনিক ও অন্যান্য কাজের ব্যস্ততার কারণে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারবে না, তার বদলে স্কুলে ডেকে এনে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও যুদ্ধাহত পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। অনুসন্ধান কমিটির কোনও কর্মসূচি চাপিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনূযায়ী শিক্ষকদের এ প্রস্তাবেই রাজী হয়। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় গণহত্যা স্থান ও স্কুলের শহীদ মিনারে মোমবাতী জ্বালাতে জড় হয় শিক্ষার্থীরা। মোমবাতী জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে নিজেরাই একাত্তুরের রণধ্বনি ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটায়। এর পর তারা স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মাঠে বসে নিজেরা আলোচনা করে নিজেদের মধ্যে থেকে চাঁদা তুলে ফুল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সাড়ে তিন শ’ টাকা তুলে ফুল কেনার জন্য দুজনকে শহরে পাঠায়। স্বাধীনতা দিবস ভোরে তারা আবার জড় হয় স্কুলে এবং দলে দলে ভাগ হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও যুদ্ধাহত পরিবারকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে অবাক হয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও যুদ্ধাহত পরিবারকে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উভয় পক্ষই। যে মুক্তিযোদ্ধা ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন তার পরিবারকে মনে রেখেছেন দেশবাসী; যে শহীদ বা যুদ্ধাহত পরিবারের খোঁজ রাষ্ট্র-সমাজ এমনকি মুক্তিযোদ্ধারাও নেয়নি গত ৪৮ বছরেও, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তাদের খোঁজ নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে এসব পরিবার। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে স্বজনের কথা ভেবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কোথায় বসতে দেবে, কী খেতে দেবে- এসব ভেবে অস্থির হয়ে পড়ে এসব পরিবার। আর তাদের আচরণ আপ্যায়নে অভিভূত হয় ফুল দিতে যাওয়া ছেলেমেয়েরাও। শিক্ষার্থীরাও প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যতদিন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে ততদিন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও যুদ্ধাহত পরিবারকে সন্মানিত করবে তাদের প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা। আর এ কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ গড়ে ওঠে সাধারণ মানুষের সঙ্গে।

অনুসন্ধান কমিটির সংগঠকেরাও তাদের কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদী। তারা এখন এ কর্মসূচিকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে আরো বেশী সংখ্যক স্কুল কলেজে। তারা মনে করছে, এসব কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বাগ্মময় হয়ে উঠবে বাঙালি জাতি। তারা স্মৃতিচারণ করবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আর তখনই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সৃষ্টি হবে রামায়ণ মহাভারতের মতো মহাকাব্য।