।। জন স্যাডওর্থ, বিবিসি ।।

২০১৫ সালের ১২ জুলাই চীনের পশ্চিমে বিস্তৃত মরুভূমি ও মরুদ্যানগুলোর ছবি তুলেছিলো একটি স্যাটেলাইট। ওই ছবিতে দেখা যায়, ধূসর-ছাইমিশ্রিত বালুময় জমি, একদম ধু ধু, বিরান আর ফাঁকা।

স্যাটেলাইটের সেই ছবি দেখে তখন ভাবার উপায় ছিলো না যে, এখানেই আমাদের সময়ের অন্যতম বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে হবে।

মাত্র তিন বছর পর, ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল মরুভূমির সেই একই জায়গার একটি স্যাটেলাইট ছবি আমাদের নতুন কিছু দেখাচ্ছে। একটি বিশাল, নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনা সেখানে গড়ে উঠেছে। এটি প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়ালঘেরা, যেখানে রয়েছে ১৬টি গার্ড টাওয়ার।

স্যাটেলাইট ইমেজে চীনের সেইসব স্থাপনা

চীন মুসলমানদের জন্য জিনজিয়াংয়ে বন্দি শিবির চালাচ্ছে, এমন প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশ্যে আসা শুরু করে গেলো বছর।

এই বন্দিশিবিরের প্রমাণ নিয়ে কর্মরত গবেষকরা গুগল আর্থের গ্লোবাল ম্যাপিং সফটওয়্যার থেকে এই স্যাটেলাইট ছবিগুলো পান।

এই জায়গাটি দাবানচেং নামের এক ছোট শহরের খানিক বাইরে। জিনজিয়াংয়ের প্রাদেশিক রাজধানী উরুমকি থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে।

সফররত সাংবাদিকদের যে শ্বাসরুদ্ধকর পুলিশি জেরার মুখোমুখি হতে হয় তা থেকে বাঁচতে, আমরা খুব সকালে উরুমকি বিমানবন্দরে নামি।

কিন্তু যখন আমরা দাবানচেং পৌঁছলাম, ততোক্ষণে আমাদের অনুসরণ করছে অন্তত ৫টি গাড়ি। গাড়িতে সব পুলিশ, পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আছে। সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তারাও।

অনুসরণ করছে গাড়ি

স্পষ্ট হয়ে গেলো, বন্দি শিবির হিসেবে সন্দেহের তালিকায় থাকা ডজনখানেক জায়গায় আমরা পরবর্তী কয়েকদিনে যে কাজের পরিকল্পনা করে এসেছি, তা খুব সহজ হবে না।

আমরা যেখান দিয়ে যাচ্ছি, এ যেনো হঠাৎ মরুভূমি ফুঁড়ে উঠে আসা এক ছোট শহর। যেনো ক্রেনে আটকে আছে বিশাল ধূসর ভবনের সারি। সবগুলোই চারতলা।

আমাদের ক্যামেরা চলছে। চেষ্টা করছি ইমারতগুলোর ছবি নিতে। আমরা খুব বেশিদূর যাবার আগেই পুলিশের গাড়িগুলো সক্রিয় হয়ে উঠলো।

আমাদের গাড়িখানা থামানো হলো। বলা হলো, ক্যামেরা বন্ধ করে মানে মানে সোজা কেটে পড়তে।

কিন্তু আমরা কিছু একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পেয়ে গেছি। বিশাল অতিরিক্ত কর্মযজ্ঞ, যা এখনো অবধি বাইরের দুনিয়ার কাছে গোপনই রয়ে গেছে।

স্থাপনার কিছু অংশ ধরা গেলো ক্যামেরায়

দুনিয়ার প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকাগুলোতে স্যাটেলাইট ছবি হালনাগাদ করতে গুগল আর্থ কয়েক মাস এমনকি বছরও লাগিয়ে দেয়।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির সেন্টিনেল ডাটাবেজের মতো স্যাটেলাইট ছবির অন্য প্রকাশ্য উৎসগুলো অল্প সময় পর পর হালনাগাদ করে। যদিও তাদের রেজ্যুলেশন অনেক কম।

কিন্তু আমরা যা খুঁজছি, তার জন্য এই যথেষ্ট। ২০১৮ সালের এপ্রিলের গুগল আর্থ স্যাটেলাইট ইমেজের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে একই বছরের অক্টোবরের সেন্টিনেল স্যাটেলাইট ইমেজে অবকাঠামো কতোগুলো বেড়েছে। কী দ্রুতই না এই কাজ এগিয়ে চলেছে।

গাড়ি আটকে দিলো পুলিশ

যেটাকে আমরা বড় বন্দিশিবির বলে সন্দেহ করছিলাম, দেখা যাচ্ছে বাস্তবে এটা আমাদের ধারণার চেয়েও বড়।

এটা জিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা একই রকমের স্থাপনার একটি। যে স্থাপনাগুলো বড় বড় জেলখানার আদলে তৈরি।

এই জায়গায় ঢোকার চেষ্টা শুরুর আগে আমাদের দাবানচেংয়ের মাঝামাঝি থামতে হলো।

প্রকাশ্যে এখানে কারো সঙ্গে কথা বলা অসম্ভব। পেছনে ফেউ লেগে আছে এবং আমাদের সঙ্গে এমনকি কেউ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও তারা বিপদে পড়ে যেতে পারেন।

আমরা একটা অভিনব উপায় কাজে লাগালাম। আমরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ফোন লাগাতে শুরু করলাম। প্রশ্ন থাকলো, ১৬ গার্ডটাওয়ার বসানো বিশাল সেই কমপ্লেক্সগুলো কী, যেগুলোর ছবি আমরা তুলতে পারলাম না?

একজন জানালেন, “এটা একটা পুণঃশিক্ষার স্কুল।”

স্যাটেলাইট ইমেজ প্রমাণ করছে কতো দ্রুত স্থাপনা নির্মাণ কাজ এগিয়েছে

আরেকজনও একই কথা বললেন। তিনি যোগ করলেন, “ওখানে এখন দশ হাজারের মতো মানুষ আছে। তাদের চিন্তা-ভাবনায় কিছু সমস্যা আছে।”

এমনধারার স্থাপনা, সুযোগ-সুবিধা আর নিরাপত্তা দিয়ে কোনো স্কুল হয় বলে আমাদের জানা নেই। কিন্তু জিনজিয়াংয়ে এসে মনে হলো “স্কুলে যাওয়া’ তাদের কাছে ভিন্ন কোনো অর্থ বহন করে।

চীন ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছে যে তারা মুসলিমদের বিনা বিচারে আটকে রাখেনি। কিন্তু এই ক্যাম্পগুলোর একটা অস্তিত্ব রেখার মতো আছে, সেটা হলো- শিক্ষা।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ক্রমাগত বেড়ে চলার ফলে কর্তৃপক্ষ এই স্কুলকেন্দ্রীক বিবরণ প্রোপাগান্ডার পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশনে যা দেখানো হচ্ছে

রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন ঝকঝকে প্রতিবেদন দেখাচ্ছে এসব নিয়ে। দেখাচ্ছে, পরিস্কার শ্রেণিকক্ষ আর কৃতজ্ঞ শিক্ষার্থীদের। ভাবখানা এমন যে, তারা এখানে স্বেচ্ছায় বিদ্যালাভ করছে!

যদিও তারা কতোদিন ধরে সেই কাজটি করছে আর কীভাবেই বা তাদের বেছে নেয়া হলো সে ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই সেখানে।

কিন্তু কিছু ক্লু আছে সেখানে। এসব শিক্ষার্থীদের কথাবার্তায় সাক্ষাৎকার কম, স্বীকারোক্তি বেশি।

একজনকে বলতে দেখা গেলো, “আমি গভীরভাবে আমার নিজের ভুলগুলো বুঝতে পেরেছি।” তিনি ভবিষ্যতে ভালো নাগরিক হওয়ার আশ্বাস দিলেন, বললেন, “বাড়ি ফিরতে পারলে”।

এই স্থাপনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে আমাদের বলা হচ্ছিলো, এগুলো সব চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য। এখানে আইনি তত্ত্ব, কর্মদক্ষতা ও চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

শেষ ব্যাপারটা দেখিয়ে দেয় যে, আপনি এগুলোকে স্কুল বা ক্যাম্প যাই বলুন, শেষমেশ লক্ষ্য কিন্তু একটাই।

এসব স্থাপনা বিশেষভাবে জিনজিয়াংয়ের মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য তৈরি, যাদের অনেকে মাতৃভাষা হিসেবে চীনা বলে না।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ‘স্কুল’ ড্রেসকোড মেনে চলে এবং সেখানে কোনো নারী শিক্ষার্থী হিজাব পড়ে না।

জিনজিয়াংয়ে ১০ মিলিয়নের বেশি উইঘুর আছে। তারা তুর্কিক ভাষায় কথা বলে এবং চীনের সংখ্যাগুরু হান চাইনিজদের চেয়ে মধ্য এশিয়ার মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বেশি।

কাসগারের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ভৌগোলিকভাবে বেইজিংয়ের চেয়ে বাগদাদের খুব কাছে। কিছু ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিকভাবেও।

চীনা শাসনের বিদ্রোহ ও প্রতিবিদ্রোহের ইতিহাসে, উইঘুরদের সঙ্গে তাদের আধুনিক রাজনৈতিক প্রভূদের সম্পর্কও দূরত্বের মতোই।

এখানে খনিজ সম্পদ আছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস। আয়তনে এটা জার্মানির ৫ গুণ। আর সে কারণেই এখানে বিপুল চীনা বিনিয়োগ এসেছে। দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে নিয়ে এসেছে হান চাইনিজ সেটলারদের একটা বড় স্রোত।

সেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভাগ যতো কম হয়েছে, উইঘুরদের তীব্র বিতৃষ্ণা ততো বেড়েছে।

এমন সমালোচনার জবাবে চীনা কর্তৃপক্ষ জিনজিয়াংয়ের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান বাড়ার কথা বলে থাকে।

কিন্তু এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে এখানে অনেক মানুষের প্রাণ গিয়েছে দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, পূর্বপরিকল্পিত হামলা ও পুলিশের তৎপরতা মিলিয়ে।

২০১৩ সালে বেইজিংয়ের তিয়েনমেন স্কোয়্যারে হামলায় প্রাণহানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

যদিও মৃত্যুর হিসাব ছোট। কিন্তু এই ঘটনা চীনের রাষ্ট্রীয় ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দেয়।

পরের বছর চীনের কুনমিং শহরে একটি রেলস্টেশনে চাকুধারী উইঘুর হামলাকারী শিকার হয় ৩১ জন মানুষ।

গত প্রায় চার বছর ধরে, জিনজিয়াং রাষ্ট্রের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। যেমন চেহারা শনাক্তকারী ক্যামেরা, মোবাইল ফোনের তথ্য পাঠোদ্ধারে সক্ষম মনিটরিং ডিভাইস এবং বিপুল মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ।

নতুন আইনি সাজার বিধান রাখা হয়েছে ইসলামিক পরিচয় ও চর্চার ব্যাপারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, লম্বা দাড়ি ও টুপি, শিশুদের ধর্মীয় প্রশিক্ষণ, এবং এমনকি ইসলামী ঘরানার নামও।

এই নীতি মনে হচ্ছে অফিসিয়াল চিন্তার একটি মৌলিক পরিবর্তন। বিচ্ছিন্নতাবাদকে এখানে কিছু বিচ্ছিন্ন মানুষের সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং ঢালাওভাবে উইঘুর সংস্কৃতি ও ইসলাম ধর্মকেই সমস্যা বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সমাজচিন্তার সাথে যা মিলে যায় যে, পরিবার ও বিশ্বাসের প্রতি আনুগত্য শুধুমাত্র একটা বিষয়কেই কেন্দ্র করে- সেটা হলো কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য।

উইঘুরদের স্বতন্ত্র পরিচয় তাদের সন্দেহের লক্ষবস্তুতে পরিণত করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আরও দৃঢ় করেছে, যখন এখানকার অনেকে সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠীর হয়ে লড়তে গিয়েছে।

উইঘুররা এখন হাজার হাজার চেকপয়েন্টে তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই তল্লাশির শিকার হয়, যেখানে হান চাইনিজ বাসিন্দারা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারে।

তারা অনেক রকমের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকে। সে জিনজিয়াংয়ের ভেতর কিংবা বাইরে যেখানেই হোক। ‘সুরক্ষার স্বার্থে’ তাদের পাসপোর্টগুলোও পুলিশ জমা নিয়ে রেখেছে।

উইঘুর সরকারি কর্মকর্তারা তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন না। মসজিদে যাওয়া কিংবা রমজানে রোজা রাখা তাদের জন্য নিষেধ।

এসব থেকে বোঝা যায় যে, চীন তাদের অনেক উইঘুর নাগরিককে আনুগত্যে ফেরাতে পুরনো এবং ভোঁতা সমাধান প্রয়োগ করতে পারে।

সরকারি অস্বীকার স্বত্বেও এসব স্থাপনার অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণটি এসেছে চীনা কর্তৃপক্ষের নিজেদের কাছ থেকেই।

স্থানীয় সরকারের দরপত্র নথি থেকে স্পষ্ট তা বোঝা যায়। জার্মান-ভিত্তিক অ্যাকাডেমিক আদ্রিয়ান জেনজ এই নথিগুলো ফাঁস করেছেন, যেখানে স্থাপনাগুলো তৈরির জন্য ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দর আহ্বান করা হয়েছে।

সেখানে জিনজিয়াংজুড়ে ডজনখানেক স্থাপনার বিস্তারিত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য।

গণমাধ্যমের অন্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে জেনজ জানিয়েছেন, সম্ভবত এক মিলিয়নের মতো উইঘুর ও অন্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের পুণঃশিক্ষায়তনে রাখা হয়েছে। নথিপত্রের কোথাও অবশ্যই বন্দিশিবিরের কথা উল্লেখ নেই। তবে পুণঃশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে একটা বিশাল স্থাপনাই আমরা নিজ চোখে দেখেছি। এর দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে। সেখানে কাজটির নাম উল্লেখ আছে “স্কুলের মাধ্যমে পরিবর্তন”।

এসব কিছুই নির্ভুলভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, অনেক মানুষকে রাখার জন্য এমন স্থাপনার একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

২০০২ সালে রেইলা আবুলাইতি জিনজিয়াং থেকে ব্রিটেনে পড়াশোনার জন্য যান। তিনি সেখানে একজন ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করে সেখানকার নাগরিকত্ব নেন এবং পরিবার শুরু করেন।

রেইলা আবুলাইতি

গেলো বছর তার মা তার কাছে গ্রীষ্মাবকাশ কাটাতে গিয়েছিলেন। মেয়ে-নাতিদের সঙ্গে এই সময়টা লন্ডনে ঘুরে কাটান তিনি। তার নাম জিয়ামুক্সিনুয়ের পিদা। ৬৬ বছর বয়সী এই উচ্চ শিক্ষিত সাবেক প্রকৌশলী চীনের একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানিতে দীর্ঘ সময় চাকরি করেছেন।

২ জুন তিনি জিনজিয়াং ফিরে যান। এরপর তার কাছে থেকে কোনো খবর না পেয়ে রেইলা বাসায় ফোন করেন। আলাপ ছিলো সংক্ষিপ্ত এবং পিলে চমকানোর মতো।

রেইলা বলেন, “তিনি আমাকে বললেন যে পুলিশ আমাদের বাসায় তল্লাশী চালিয়েছে।” এই অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য ছিলো রেইলা।

তার মা তাকে ব্রিটেনের ঠিকানার প্রমাণ, ব্রিটিশ পাসপোর্টের কপি, তার ব্রিটেনের টেলিফোন নম্বর এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য পাঠাতে বলেন।

এবং চীনা মোবাইল চ্যাট সার্ভিসের মাফরত সেগুলো পাঠাতে বলে তার মা তাকে এমন কিছু বলেন, যাতে রেইলার শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত নেমে যায়।

তার মায়ের কথাগুলো ছিলো- “আমাকে ফোন করো না। আর কখনওই ফোন করো না।”

জিয়ামুক্সিনুয়ের পিদা

রেইলা ওই শেষবারের মতো তার কণ্ঠ শুনতে পান। তার ধারণা, এরপর থেকে তার মাকে কোনো ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

রেইলা বলেন, “আমার মাকে কোনো কারণ ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে। আমি যদ্দূর জানতে পারছি, চীন সরকার পৃথিবী থেকে উইঘুর পরিচয়টা মুছে ফেলতে চায়।

বিবিসি বিদেশে বসবাসরত ৮ জন উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের সবার কথাই প্রায় অভিন্ন। সেখান থেকে ক্যাম্পের ভেতরের জীবন সম্পর্কে মোটা দাগের একটা ধারণা পাওয়া যায়, যেখানে মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে।

ধর্মপালন কিংবা বিদেশে বসবাসরত যেকোনো উইঘুর নাগরিকের সঙ্গে ন্যুতম কোনো যোগসূত্র পেলে তাদেরকেই সেই “পুণঃশিক্ষায়ন” প্রক্রিয়ায় পাঠানোর জন্য যথেষ্ট।

বিবিসি’র এই দীর্ঘ অনুসন্ধানের দ্বিতীয় কিস্তি পড়ুন : উইঘুর পরিবার বন্দি শিবিরে, শিশুরা এতিমখানায়