।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

পদ্মা নদীর প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার চরে একটি নতুন স্যাটেলাইট টাউন গড়তে চীনকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। চীনা রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না এ ব্যাপারে প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রাসিক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, পাওয়ার চায়না রাজশাহীর উন্নয়নে যে মহাপরিকল্পনা তৈরি করে দিচ্ছে, সেখানে পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটানোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর পরিকল্পনা থাকছে। নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর মাঝে যে দীর্ঘ চর সাম্প্রতিককালে স্থায়ীভাবে দেখা যাচ্ছে, সেখানে একটি স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারাও একমত হয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীটি নগরীর প্রবেশমুখে দুটি ধারায় ভাগ হয়েছে। এই দুই ধারার মাঝামাঝি প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার চর জেগে উঠেছে। গত প্রায় একদশক ধরে এই চরটি এখানে দেখা যাচ্ছে।

রাসিক প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “এই চরটিকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী এখানে নদী শাসনের কাজ রয়েছে। পাওয়ার চায়না সেই কাজগুলোর মাধ্যমে চরটিকে সুরক্ষা দিয়ে একটি স্যাটেলাইট সিটি গড়া সম্ভব বলে মনে করছে।”

আশরাফুল হক জানান, মহাপরিকল্পনা নিয়ে তৃতীয় দফার বৈঠকে পাওয়ার চায়না একটি খসড়া উপস্থাপন করেছে। সেটা ধরেই কাজ হবে। এ লক্ষ্যে তারা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ওয়াসা, সওজ, আরডিএ, পাউবো’র মতো সংস্থার সঙ্গেও বৈঠক করবে।

প্রসঙ্গত, গেলো সিটি নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনের নির্বাচনী প্রচারণায় এই স্যাটেলাইট সিটির কথা ছিলো।

ওয়ান রোড ওয়ান বেল্টের সুফল পেতে পারে রাজশাহী

রাসিক প্রধান প্রকৌশলী জানান, বিশ্বজুড়ে চীন যে ওয়ান রোড ওয়ান বেল্ট নিয়ে কাজ করছে, তার সুফল রাজশাহীও পেতে পারে বলে সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্রতিনিধিরা তাদেরকে জানিয়েছেন।

আশরাফুল হক বলেন, “চীনের সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে কাজও হচ্ছে। সেক্ষেত্রে রাজশাহীকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করছে চীন।”

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় আঞ্চলিক যোগাযোগ তৈরির বড় মাধ্যম হিসেবে ঐতিহ্যবাহী এই নগরীকে দেখছে চীন। আর সে কারণেই এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায়।

পরিকল্পনায় বিমানবন্দর

রাসিক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক আরও জানান, মহাপরিকল্পনায় একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকছে। সেটি নির্মাণের জন্যও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে এই বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

পাওয়ার চায়নার সঙ্গে রাসিক’র বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাওয়ার চায় এর আগে বিমানবন্দর তৈরিতে তাদের যে অভিজ্ঞতা তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে কাতারের দোহায় নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কথা তারা জানান।

শুধু নগরী নয়, পুরো বিভাগ নিয়েই ভাবছে চীন

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, রাজশাহীর মহাপরিকল্পনা তৈরি ও এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশই শেষ নয়। পুরো রাজশাহী বিভাগেই বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে চীনের।

মেয়র বলেন, “চীনের রাষ্ট্রদূত রাজশাহী এসেছিলেন। তখনই আমরা তাকে অনুরোধ করেছিলাম যে, আমাদের এখানে উন্নয়ন প্রকল্পে চীন বিনিয়োগ করুক। রাষ্ট্রদূত আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং ফিরে গিয়েই তাদের রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি পাওয়ার চায়নাকে পাঠিয়েছিলেন।”

তিনি বলেন, “চীনের কাছে রাজশাহীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তারা তা করতেও চায়। শুধু রাজশাহী নগরী নয়, পুরো বিভাগেই নানা উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগে তারা আগ্রহ দেখিয়েছে।”

এখন অপেক্ষা দুই সরকারের সমঝোতার

রাসিক প্রধান প্রকৌশলী জানান, পাওয়ার চায়নার সঙ্গে কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে এগিয়ে গেলেও এখন এর জন্য দুই দেশের সরকারের সমঝোতার ব্যাপার রয়েছে।

আশরাফুল হক বলেন, “এসব প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। মন্ত্রণালয় ও ইআরডি এখানে জড়িত। এসব প্রক্রিয়া শেষে তবেই আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারবে পাওয়ার চায়না।”