।। বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী ।।

রাজশাহী মহানগরীর জন্য মহাপরিকল্পনা তৈরি করে দিচ্ছে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি পাওয়ার চায়না। এ খবর পুরনো। তবে নতুন খবরটি হলো, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তারা মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজটি সম্পন্ন করতে পারবে বলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) আশ্বস্ত করেছে।

রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, ইতোমধ্যে তারা একটি খসড়া মহাপরিকল্পনা তাদের কাছে উপস্থাপন করেছে। সেটি নিয়ে তারা তাদের মতামতও দিয়েছেন।

লিটন বলেন, “এ যাবৎ চীনা কোম্পানিটি রাজশাহীতে যেসব কাজ করছে, তাতে রাসিক’র একটি পয়সাও খরচ হয়নি। মাস্টারপ্ল্যানটি (মহাপরিকল্পনা) তৈরি করতেও তারা আলাদা কোনো অর্থ নেবে না। তারা শুধু বিনিয়োগ করবে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পরে।”

পাওয়ার চায়নার সঙ্গে আলাপের সূত্র ধরে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালনকারী এই মেয়র বলেন, “সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা মাস্টারপ্ল্যানটির চূড়ান্ত খসড়া পাবো। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরোটাই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। এরপর এর আলোকে আমরা কাজ শুরু করবো।”

লক্ষ্য ভবিষ্যতের নগরী গড়া

একটি চীনা প্রতিষ্ঠান কীভাবে রাজশাহীর মতো একটি নগরীর বাস্তবতা মিলিয়ে কাজ করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, “পাওয়ার চায়না এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যারা বিশ্বজুড়ে কাজ করছে। সারাবিশ্বে তাদের অনেকগুলো প্রকল্প আছে। এগুলোর মধ্যে অবকাঠামোগত প্রকল্প যেমন আছে, তেমনই জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রকল্পও রয়েছে।”

“দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশে তাদের প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশেও তারা কাজ করছে। কাজেই আমার মনে হয় না যে, রাজশাহীর বাস্তবতা বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করতে তাদের কোনো সমস্যা হবে।” এভাবেই জবাব দেন মেয়র লিটন।

কিন্তু সেক্ষেত্রে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা ফ্লাইওভারের মতো প্রকল্প রাজশাহীর জন্য কতোটা প্রয়োজনীয়? মেয়রের জবাব, “একটি নগরীর জন্য আজকেই শেষ কথা নয়। আমাদের চিন্তা করতে হবে আগামী নিয়ে। আজ যে নগরী আছে, শিগগির তা চার গুণ হবে। তখন ঢাকা শহরের মতো বাস্তব সমস্যাগুলো উঠে আসতে শুরু করবে হয়তো। কিন্তু আমরা কি সেজন্য বসে থাকবো? বরং আমি মনে করি, ভবিষ্যতে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে, এখন থেকেই সেগুলো সমাধানের উপায় ঠিক করে রাখতে হবে। তাহলে আমার বিশ্বাস, রাজশাহী একদিন বাংলাদেশের তো বটেই এই অঞ্চলের অন্যতম বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নগরী হয়ে উঠবে।”

খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, “বাংলাদেশে এক ঢাকা শহরের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমানো না গেলে ভবিষ্যতে খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে। নানা ঘটনায় মানুষ সেটি উপলব্ধিও করছেন। আমাদের কাজ হবে, রাজশাহীকে তাদের সামনে একটি উপযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। যাতে, বিকেন্দ্রীকরণের প্রবণতায় সবার আগে আমাদের নগরীর নাম আসে।”