বাসনাপাতা


দোয়েলের দিকে মন নেই। অথচ অনন্ত আঙুর জেগে আছে।



আগুনে ফুটে আছে তরবারি


আমার তবু ফেরা হবে না—এ পৃথিবীর আলোকপিণ্ডে । গনগনে আগুনের রাতে
আমাকে গিলে খাচ্ছে ঋতুকাল। দুঃখ ও রক্ত বেদনারা অমরত্ব গিলে খাচ্ছে।
অন্ধকারে সুখ পাচ্ছে। চকচকে ছুরি ও বিবিধ কাটা ফলের অবয়বে। 

পোড়া রুটির দিকে তাকিও না এভাবে। সৌন্দর্যের মহিমা নিয়ে থাকুক আমার এ দগ্ধকাল। আগুনে ফুটে আছে ফুল-তরবারি। তোমাকে তোমার প্রিয় কামনা ফলের দিকে ছুড়ে দিয়েছি।


যেভাবে নদী ফেরে না তার উপক্রমণিকায় সেভাবে কোনো নিশ্চয়তায়, আমার আর ফেরা হবে না—বাড়ি। একটি মেয়ে যে শ্মশান কুড়াচ্ছে চোখে আর গুটিয়ে নিচ্ছে নিঃশ্বাসের বেলুন—সে কোনোদিন তোমার দিকে, বাড়ির দিকে ফিরবে না।



সফেন সারেঙ্গী


আলো তলিয়ে যাচ্ছে। অন্ধকারে একটানা কে বাজায়? তার সুর কি মৃদু হন্তারকের?


হৃদয়ে ফুটে আছে পাথুরে বিলাপ। হৃদয়ে-পাথরে মিলন হলে বিছানায় ক্যাকটাস ফোটে। এই মৃদঙ্গ অন্ধকারে হাত-নখেরা বিচিত্র তুলাখণ্ডের মতো উড়ছে। হৃদয়ে-পাথরে মিলন হলে ঘোরতর বিবাদ লাগে।


এই যে মুহূর্ত, নিরুদ্বিগ্ন—ছুঁয়ে দেখছি মিলনের অবাধ খণ্ড। কোনো কম্পনে বক্ষে লাগছে না আর হাওয়া। মাতাল করছে না বাদকের লোভনীয় হন্তারক সুরাসুর।


খোলা ময়দানে উত্তরে পড়ে আছে সফেন সারেঙ্গী।



লীলাখেলা


এই মাতাল-মাতাল খেলায় আমার কোনো না নেই। খেলাকে যখন বলেছি লীলার ডাঙ্গুলি।


যে কোনো খেলাই তো মাঠে ছড়িয়ে রাখে বিপুল সাধনা। প্রথম-দ্বিতীয়পক্ষের বাইরে তৃতীয়পক্ষ অবাক করে দিয়ে তার খেলা শুরু করে দিতে পারে। সঞ্চালনে যে বেশি সক্ষম আপাত তাকে জয়ী বলে মনে হতে পারে।



বালকে, বিভ্রমে


বসন্তের ঠোঁটভরা হাসি। টোকা দিলে ফেটে যাবে ফাগুন।


উত্যুঙ্গ ছায়াকে সঙ্গে নিয়েছি। বসন্তে শাখেশাখে পরাগেরতাপ। এ ক্ষণে পাখির চলাচল ভালো লাগে। দেহে ফুটে ওঠে
তৈলাক্ত ফাঁদ।


ফাল্গুনে পড়ে আছে বালকের তানপুরা, শ্রুতিময় রাগ।



ভবপ্রেম


বসন্তে ফুটে আছে ফুল, পাখি, তরবারি। পাতাঝরা-ঝরাপাতা এখানে কি আগুন লেগে আছে? পাখিপায়ে লেগে আছে নাচ,
হেঁটে গেলে কুসুমিত ফাঁদ।


তোমার দিকে আমার উদ্দেশ্য তবু ফুরাবে না। হৃৎপিণ্ডে চক্রাকারে জুড়ে আছে ভবপ্রেম। এ যাত্রা নিদারুণ—গন্দমে সুধা আছে, স্বাদ।

এ পৃথিবী কিঞ্চিত বসন্তের

এ পৃথিবী সুন্দর—দেহজুড়ে খেলা করে মাছের কামনা। অবিরাম ফুটে ওঠে শিমুলের রঙ।