নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী 

নগরের একটি ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তা পড়েছিল ছয় বছর । সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। বছর বছর শুষ্ক মৌসুমে ইট-খোয়া ফেলা হয়েছে, আর বর্ষা মৌসুমে তা বিলীন হয়েছে। কিন্তু কার্পেটিং হয়নি। তাই রাস্তাটি নিয়ে মানুষের ছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। অবশেষে ছয় বছর পর রাস্তাটির কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

রাজশাহী নগরের সাগরপাড়া থেকে রাণীবাজার পর্যন্ত এই রাস্তাটি গেল ছয় বছর ধরেই নগরবাসীর কাছে ছিল এক দুর্ভোগের নাম। বৃহস্পতিবার রাস্তাটির কার্পেটিং কাজ শুরু হয়। পরে কাজ পরিদর্শনে যান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় তিনি কাজের গুণগতমান ও কাজের অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাস্তাটি ছিল অপ্রশ্বস্ত। তাই ৪২ ফুট পর্যন্ত রাস্তাটির প্রস্থ বৃদ্ধি করে সংস্কার কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। চারটি অংশের একটি হিসেবে রানীবাজার-সাগরপাড়া সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের নাম ‘রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদীঘি মোড় এবং মালোপাড়া মোড় থেকে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’।

প্রকল্পের একেবারে শেষের অংশ হিসেবে রানীবাজার-সাগরপাড়া সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজটি শুরু করে ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডাস’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় সাগরপাড়া, তুলাপট্টি, রানীবাজারসহ আশপাশের মহল্লার বাসিন্দাদের।

তবে ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর মেয়র হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দায়িত্বগ্রহণের পর রাস্তাটির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। পরে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়। এবার কাজটি পায় ‘রিথিন এন্টার প্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা রাস্তাটিতে আবার নতুন করে ইট-খোয়া ফেলে কার্পেটিং শুরু করলো।

এই সড়ক নির্মাণের এই প্রকল্পের পরিচালক সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণ করার জন্য ওই এলাকার প্রায় ৯০টি বাড়ি ভেঙে জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে বৈদু্যতিক খুঁটিও। এসব কাজেই বেশ সময় চলে গেছে। তবে দু’একদিনের মধ্যেই কার্পেটিং কাজ শেষ হবে। এতে মানুষের দুর্ভোগেরও শেষ হবে।