নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর তানোরে অজ্ঞাত রোগে পল্লিচিকিৎসকসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের বহরইল গ্রামে হঠাৎ করে এই ‘অজ্ঞাত রোগ’ দেখা দিয়েছে। অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন আরও ছয়জন। 

তবে কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বা সবার মৃত্যু একই রোগে কি-না তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আজ সোমবার মাঠে নেমেছেন তারা। এরই মধ্যে ওই গ্রাম পরিদর্শন করছেন ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক দলটি তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন  ছয়জনের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এরপর ওই গ্রাম পরিদর্শনে যান দলটি। পরিদর্শন শেষে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলার সময় দলটির সদস্যরা জানান, আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো রোগ আমরা এখনো পাইনি। তারা আরো জানায় অজ্ঞাত রোগের কোনো সন্ধান পাননি তারা। এবং এই বিষয়ে কাউকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ দলটি।

জানা গেছে, চিকিৎসক দল গ্রামের কিছু মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এরপরই নিশ্চিত হওয়া যাবে আসলে কী রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাই এর আগে বিষয়টি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। 

রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রোজিয়ারা খাতুন বলেন, সর্বশেষ রোববার (০৩ ফেব্রুয়ারি) এক পল্লিচিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত পল্লিচিকিৎসকের নাম ইমাম আলী বাবু (৩৮)। তিনি বহরইল গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। রোববার ভোরে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। এ নিয়ে ওই গ্রামে গত এক সপ্তাহে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। 

গত সপ্তাহের শনিবার (২৬ জানুয়ারি) নুরী বিবি (৬৫), জনাব আলী (৪৫) ও চারদিনের এক নবজতাক শিশু মারা যায়। এর একদিন পর সোমবার (২৮ জানুয়ারি) সমসের আলী (৬৫) এবং চলতি সপ্তাহের শনিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাহেলা বেগম (৪৮) নামের আরও এক গৃহবধূ মারা যান। 

আর অসুস্থ হয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন ওই গ্রামের জামেনুর রহমানের স্ত্রী শেফালি বিবি (৩৫), মৃত আনেসুর রহমানের স্ত্রী সেমেজান বিবি (৫০), আব্দুল গাফফারের স্ত্রী আপেজান বিবি (৪৮) ও দাউদ আলীর স্ত্রী বাদেনুর খাতুন (৩৫)। 

তাদের রোববার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর রোববার রাতে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে জিয়াউল হক জিয়া (২৫) ও আব্দুল হকের ছেলে সানাউল্লাহকে (৩২)। 

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত এবং বহরইল গ্রামের স্থানীয় অধিবাসীদের বরাত দিয়ে টিএইচও ডা. রোজিয়ারা খাতুন বলেন, সুস্থ মানুষের হঠাৎ করে বুক জ্বালা, শরীরে ব্যথা ও খিঁচুনি শুরু হচ্ছে। এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়েছে একইভাবে।

তিনি বলেন, ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহরইল গ্রামে গিয়ে মৃত্যুর কারণ ও নমুনা সংগ্রহ করেছে। তারা গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

এছাড়া পল্লিচিকিৎসক মারা যাওয়ার খবর পেয়ে সোমবার সকালে সেখানে ছুটে যান রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদের ও রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার সাহা।