পড়তে পারবেন 3 মিনিটে Samsungtv

টিনের চালাটা জীর্ণ প্রায় গ্রামের স্কুলঘরের। বদলাতে হবে শিগগির। প্রধান শিক্ষক সহকর্মীদের অনুরোধ করছেন কাজটা দায়িত্ব নিয়ে করার জন্য। নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাচ্ছেন সবাই। নিজে থেকেই রাজি হলেন একজন, বললেন, “দায়িত্বটা আমাকে দিন”। একে তো নারী, তার ওপর বয়স কম। প্রধান শিক্ষক খানিকটা দ্বিধান্বিত। কিন্তু প্রত্যয়ী সেই নারী বললেন, তিনি পারবেন। শেষ পর্যন্ত করেও দেখালেন। সম্প্রতি এই টেলিভিশন বিজ্ঞাপনটি জনপ্রিয় হয়েছে। প্রত্যয়ী এই নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিবা বাশার। নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করছেন নিয়মিত। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেন। নৃত্য পরিচালনা করেছেন বদরুল আনাম সৌদের “গহীনে বালুচর” সিনেমায়। পেশা হিসেবে নিয়েছেন সাংবাদিকতাকে। সম্ভাবনাময় এই তারকা উত্তরকালের সঙ্গে আলাপে জানালেন, তার কাজ-স্বপ্ন আর গন্তব্যের কথা।


উত্তরকাল : পিএইচপি অ্যারাবিয়ান হর্স কালার ঢেউটিনের বিজ্ঞাপনটি তো বেশ দর্শকপ্রিয় হয়েছে। এই কাজটি করতে গিয়ে অনুভূতি কেমন ছিলো?

নাজিবা : অসাধারণ। একে তো এর পরিচালক ছিলেন তারিক আনাম খান আর সহ অভিনেতা ছিলেন আবুল হায়াত। এই মাপের মানুষদের সাথে কাজের সুযোগটা যেমন, কাজটাও তেমনই হয়ে ওঠে অসাধারণ। টিভিসির গল্পটাই আমাকে টেনেছিলো। আর যেহেতু জানতাম যে তারিক আনামের হাতে বানানো হচ্ছে, তাই কাজ শুরুর আগেই আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে কাজটা ভালো হচ্ছে; অন্তত গল্পের দিক দিয়ে। আমি কতোটা ভালো করতে পেরেছি আমি জানি না। তবে চেষ্টা করেছি চরিত্রটাকে ভীষণভাবে অনুভব করতে। টিভিসিটা বের হবার পর ভালো সাড়া ফেলেছে এবং অনেক প্রশংসা শুনেছি। এগুলোই আমার অনেক বড় পাওয়া।

উত্তরকাল : আর কোনো টেলিভিশন বিজ্ঞাপন কি করছেন?

নাজিবা : নাটক বা সিনেমার তুলনায় টিভিসি করা হয়েছে কম। পিএইচপি’র বিজ্ঞাপনে একটা সামাজিক বার্তা ছিলো। সম্প্রতি কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় রবির একটা ক্যাম্পেইনের জন্য শ্যুট করেছি, যেটা চাইল্ড ইন্টারনেট সেফটি নিয়ে। ওটা এখনো বেরোয়নি। তবে এখানেও একই ঘটনা। গল্পটা আমাকে টেনেছে এবং সামাজিক বার্তাটা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। তাই কাজ করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে।

“যদি একদিন” সিনেমার সেটে

আসলে মিডিয়া বা বিনোদনে কাজ করার মূল কারণটাই তো সমাজে উন্নতি আনার জন্য হওয়া উচিত। সেই ধারণা নিয়েই আমি ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম। কয়েকটা কাজের মাধ্যমে সেই সুযোগটা পেয়ে আমি খুশি।  

উত্তরকাল : বদরুল আনাম সৌদের সিনেমা “গহীনে বালুচর”-এ কাজের অনুভূতি কেমন ছিলো?

নাজিবা : গহীনে বালুচরের অনুভূতিটা বলতে গেলে ওয়ান ইন আ লাইফটাইম এক্সপেরিয়েন্স যেটাকে বলে। কাজ করতে পেরেছি অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষের সঙ্গে এবং নতুনদের সঙ্গেও।

গহীনে বালুচরের সেটে

এই সিনেমাতেই আমার নৃত্য পরিচালক হিসেবে প্রথম কাজ। তবে এখন আমার মনে হয়, যেহেতু ওটা আমার প্রথম কাজ ছিলো। পরেরবার হয়তো আমি আরো ভালো করতে পারবো। কাজটা কীভাবে করতে হয়, তা পুরোটাই আমি শিখেছি সেটে গিয়ে। পরিচালক বদরুল আনাম সৌদ আর সুবর্ণা মুস্তাফার হাত ধরেই শেখা। তাদের দুজনকে ছাড়া কাজটা আমার জন্য অসম্ভব হয়ে যেত।  

উত্তরকাল : অভিনয়শিল্পী নাজিবা নাকি কোরিওগ্রাফার নাজিবা- কাকে বেছে নেবেন?

নাজিবা : কোরিওগ্রাফির বিষয়ে বলবো, আমি এখনো কাঁচা। নাচি প্রায় ২০ বছর ধরে। তবে এখনো নিজেকে কোরিওগ্রাফার বা ড্যান্স ডিরেক্টর ডাকার সাহসটা আমার হয়নি। নাচে বিরতিও ছিলো মাঝে কিছুদিন। তাই সাধনাটা যতদিন পুরোপুরি না আবার ফেরত আসবে এবং নাচ নিয়ে আরো অনেক কাজ করতে পারবো, ততোদিন হয়তো নিজেকে কোরিওগ্রাফার ডাকতে পারবো না।

নাচের মঞ্চে

অভিনয়শিল্পী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার কখনোই ছিলো না। বলা যায়, নাচের মাধ্যমেই আমার অভিনয় শেখা। তবে একবার শুরুর পর কাজটার প্রেমে পরে গিয়েছি এবং প্রতি মুহূর্তে প্রতিটা চরিত্র নিয়ে নতুন কিছু করতে চেষ্টা করি। তো, যদি আমাকে নাচ আর অভিনয়ের মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, আমি হয়তো পারবো না। আমার একের সাথে অন্যটা জড়িত। দুটোর কোনোটিকেই ছাড়া সম্ভব না।   

উত্তরকাল : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

নাজিরা : ভবিষ্যতের জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি সব সময় দেখেছি যে, বেশি পরিকল্পনা থাকলে, যখন সে অনুযায়ী কাজ এগোয় না কিছু, কষ্টটা বেশি পাওয়া যায়। আমি জীবনটাকে খুবই সাদামাটাভাবে যাপন করতে পছন্দ করি। যাই আমার পথে আসুক, সে কাজ হোক, বাধা হোক, মানুষ হোক, আমি তাকে নিয়েই আগাই।

যখন সাংবাদিক

আমার একটাই স্বপ্ন। কাজকে ভালোবেসে করা আর শুধুই ভালোবাসার কাজ করা। সেটা সাংবাদিকতা হোক, নাচ হোক, কিংবা অভিনয়। যদি আমি কাজটাকে ভালোবেসে থাকি, আমি করতে থাকবো যতদিন আমার পক্ষে সম্ভব।

Berger Weather Coat