বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন

খালেদা জিয়ার এক ‘চিরকুট’ নিয়ে এখন তোলপাড় বিএনপি মহলে। কী লেখা আছে সেই চিরকুটে? সোমবার নাজিমউদ্দিন রোডের বিশেষ আদালতে বেগম খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের মাধ্যমে এক চিরকুট দিয়েছেন। এই চিরকুট নিয়ে চলছে দলে তোলপাড়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ নিজে আদালতের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলছেন, এ রকম কোনো চিরকুটের খবর তার জানা নেই। কিন্তু যে আইনজীবী আদালত থেকে ঐ চিরকুট বয়ে এনেছেন তিনি বলেছেন, ‘ম্যাডামই এটা আমাকে দিয়েছেন।’ তার দাবি বেগম জিয়া মওদুদকে বিশ্বাস করেন না জন্যই তার অগোচরে এটা আমাকে দিয়েছেন। তিন বাক্যের এই চিরকুটে বলা হয়েছে, ‘ফখরুলই থাকবে। দলে বিরোধ নয়। সারাদেশে জনসংযোগ চলবে।’হাতের লেখা বেগম জিয়ার মতোই। কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বলছেন, ‘এজলাসের এ রকম গোয়েন্দা এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে কিভাবে চিরকুট পাঠানো সম্ভব। কিন্তু যে আইনজীবী এটা নিয়ে এসেছেন, তাকে ‘অবিশ্বাস’ করা অসম্ভব বলেই মধ্যস্তরের নেতাকর্মীরা মনে করেন।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর নিজের দলেই সমালোচিত মির্জা ফখরুল। দলের সিনিয়র নেতারা তাকে সরানোর জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছে। লন্ডনে পর্যন্ত নালিশ গেছে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে। দলের সিনিয়র নেতারা এখন প্রকাশ্যেই দল পুন:গঠনের কথা বলছেন। বিএনপিতে এমন আভাস পাওয়া যায় যে, ফখরুলের সরে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে লন্ডনে তলব করা হয়েছে বলেও বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

ফখরুলপন্থিরা নির্বাচনের পর থেকেই তাদের কারারুদ্ধ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রত্যাশি। সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে দুই দফা চিঠিও দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের পর থেকেই বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ সবার। বিএনপি মহাসচিব পরিবর্তন এবং স্থায়ী কমিটির পুনঃগঠনের আগে তারেক জিয়াও তার মায়ের মনোভাব জানতে চান। কিন্তু বেগম জিয়ার মতামত নেয়া কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে নাজিম উদ্দিন রোডের বিশেষ কারাগারে শুরু হয়েছে নাইকো দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠন প্রশ্নে শুনানি। এই শুনানির প্রথম দিন ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদের সঙ্গে দেখা হয় বেগম জিয়ার। কথাও হয়। কিন্তু তা দল পুন:গঠন বা মহাসচিব পরিবর্তন নিয়ে নয়। কথা হয় ২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে। সেখানে ভরা আদালতেই বেগম জিয়া জানিয়ে দেন, ২০ দল বিলোপের প্রশ্নই আসে না। শুনানীর দ্বিতীয় দিন অসুস্থতার কারণে বেগম জিয়া উপস্থিত হন নি। সোমবার তিনি আসেন হুইল চেয়ারে। এসেই আইনজীবীকে ডেকে নেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের সঙ্গে স্রেফ কুশল বিনিময় করেন। মঙ্গলবার এই চিরকুট ছড়িয়ে পরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে হাতে। এর ফলে বেগম জিয়া মির্জা ফখরুলের প্রতিই আপাতত আস্থা রাখলেন বলে দাবি করছেন মহাসচিবের পক্ষের লোকজন। কিন্তু ব্যরিষ্টার মওদুদ আহমেদসহ সিনিয়র নেতারা বলছেন, এটা বানোয়াট। ফখরুলের এটি আরেক জালিয়াতি। কিন্তু বেগম জিয়ার চিরকুট সত্য না ‘জাল’ কে শনাক্ত করবে?