বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহিদ মিনারটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে অবস্থিত ৫৫ বছর পুরোনো এই মিনারটির ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। যেটি নির্মিত হয়েছিল ষাটের দশকে।

রাবি সূত্রে জানা যায়, ভাষাশহিদদের স্মৃতি রক্ষায় শহীদুল্লাহ কলাভবনের দক্ষিণে আমবাগানে ১৯৬৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতারাতি শহিদ মিনারটি গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা। ১৯৬৭ সালে রাকসু নেতাদের উদ্যোগে পূর্ণতা পায় এটি। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বোমা মেরে শহিদ মিনারটি গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এরপর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছিল রাবি এই শহিদ মিনারটি। এর ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করতে দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছিল বাংলা বিভাগ, আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’, ছোট কাগজ ‘চিহ্ন’, ‘স্নান’সহ বিভিন্ন সংগঠন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে  শহিদ মিনারের বেদীর নকশার আদলে স্থানটি টাইলস দিয়ে ঘিরে রাখার কাজ চলছে। বেদীর চারপাশ লোহার রেলিং দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও চিহ্ন’র সহযোগী সম্পাদক অর্বাক আদিত্য বলেন, রাবির প্রথম শহিদ মিনারটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার কাজটি সত্যি প্রশংসার। তবে প্রশাসন সময় নিয়ে মূল মিনারটির সঙ্গে সংগতি রেখে নকশা প্রস্তুত করে আরও ভালো করে সংরক্ষণ করতে পারতো।

এ বিষয়ে শহিদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, এই কাজটি আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। কারণ এই জায়গাটি ঐতিহাসিকভাবে অনেকগুরুত্বপূর্ণ। অথচ অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এটি সম্পর্কে জানতেন না। জায়গাটি সংরক্ষণের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা অনেক ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা হলো।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দকুমার সাহা বলেন, ভাষা আন্দোলনের একটি স্মারক এই মিনারটি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় কি নির্মমভাবে এটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল! এসব ইতিহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের জানা প্রয়োজন। সেই তাগিদ থেকেই রাবির প্রথম শহিদ মিনারটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।