বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন

অনিয়মের কালিমা কপালে নিয়ে সিটি ব্যাংক ছাড়লেন এমডি সোহেল আর কে হুসেইন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিশদ পরিদর্শনে সোহেল আর কে হুসেইনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনের কারণেই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।

নিজের বেতন বাড়ানো, বাড়তি মেয়াদে গৃহঋণ নেয়া, বেতনের হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন, নিয়ম লঙ্ঘন করে পছন্দের কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দেয়ায় বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ ছাড়তে হয়েছে তাকে।

জানা যায়, ২০০৭ সালে সিটি ব্যাংকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগ দেন সোহেল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের নভেম্বরে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। দ্বিতীয় দফায় সোহেল হুসেইনের এমডির দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ছিলো চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত। পর্ষদের চাপে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯ মাস আগেই পদত্যাগ করেন তিনি।

 সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় একমাসের ছুটিতে যান সোহেল আর কে হুসেইন। দুইদিন পর ১৬ জানুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন। ছুটিতে যাওয়া এবং পদত্যাগের আগে সোহেল হুসেইন চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি মোতাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা থাকে। চুক্তির বাইরে এমডির আর কোনো সুবিধা নেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সোহেল আর কে হুসেইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্ধারিত বেতন-ভাতার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে বেতনের অতিরিক্ত প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়েছেন তিনি।  এ বিষয়ে সোহেল আর কে হুসেইনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকে নেয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সোহেল আর কে হুসেইন তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি অন্য একটি ব্যাংকে যোগ দেয়ার জন্যই পদত্যাগ করেছি।